০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউজ ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল।

টানা চার দিন বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানি, বরিশাল বিভাগে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বাড়ছে দুর্ভোগ

বরিশাল প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা চার দিন ধরে বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে লঞ্চ ও ফেরিঘাটের পন্টুন এবং গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিপৎসীমার ওপরে একাধিক নদীর পানি

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার জোয়ারে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এ ছাড়া ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর খেয়াঘাট পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার, দৌলতখান পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি ৪৭ সেন্টিমিটার এবং তজুমদ্দিন পয়েন্টে ১ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে ঝালকাঠির বিষখালী নদী, বরগুনার পাথরঘাটা, বরগুনা সদর, পিরোজপুরের বলেশ্বর নদ এবং আমতলীর পায়রা নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। শনিবার দুপুরের জোয়ারেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়।

প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, চরম দুর্ভোগে মানুষ

টানা বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকায় বাঁধের বাইরে থাকা বহু পরিবারের ঘরে হাঁটুসমান পানি ঢুকে পড়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, নদীর তীরবর্তী এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে।

শত শত পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বজনদের বাড়িতে

বরগুনার তালতলী উপজেলার তুতুলবাড়িয়া, খোট্টারচর, জয়ালভাঙ্গা ও ছোট অংকুজানপাড়া এলাকার অন্তত ৭০০ পরিবার ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় নৌকায় করে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনে-রাতে দুই দফা জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্নাসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

নৌপথে যাত্রীদের বাড়তি ঝুঁকি

উঁচু জোয়ারে লঞ্চ ও ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে এবং পন্টুন পানিতে ডুবে যাওয়ায় যাত্রীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ওঠানামা করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও কয়েক দিন থাকতে পারে একই পরিস্থিতি

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপের প্রভাবে দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দমকা হাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারের এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সময় : ০৬:২৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

টানা চার দিন বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানি, বরিশাল বিভাগে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বাড়ছে দুর্ভোগ

বরিশাল প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা চার দিন ধরে বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে লঞ্চ ও ফেরিঘাটের পন্টুন এবং গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিপৎসীমার ওপরে একাধিক নদীর পানি

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার জোয়ারে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এ ছাড়া ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর খেয়াঘাট পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার, দৌলতখান পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি ৪৭ সেন্টিমিটার এবং তজুমদ্দিন পয়েন্টে ১ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে ঝালকাঠির বিষখালী নদী, বরগুনার পাথরঘাটা, বরগুনা সদর, পিরোজপুরের বলেশ্বর নদ এবং আমতলীর পায়রা নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। শনিবার দুপুরের জোয়ারেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়।

প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, চরম দুর্ভোগে মানুষ

টানা বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকায় বাঁধের বাইরে থাকা বহু পরিবারের ঘরে হাঁটুসমান পানি ঢুকে পড়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, নদীর তীরবর্তী এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে।

শত শত পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বজনদের বাড়িতে

বরগুনার তালতলী উপজেলার তুতুলবাড়িয়া, খোট্টারচর, জয়ালভাঙ্গা ও ছোট অংকুজানপাড়া এলাকার অন্তত ৭০০ পরিবার ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় নৌকায় করে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে ও স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনে-রাতে দুই দফা জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্নাসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

নৌপথে যাত্রীদের বাড়তি ঝুঁকি

উঁচু জোয়ারে লঞ্চ ও ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে এবং পন্টুন পানিতে ডুবে যাওয়ায় যাত্রীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ওঠানামা করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও কয়েক দিন থাকতে পারে একই পরিস্থিতি

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপের প্রভাবে দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দমকা হাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারের এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।