বিশ্বকাপের ফিফা আয়ের ভাগ পাবে বাংলাদেশ, বাফুফের উন্নয়নে অর্থ সহায়তা
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় হবে। সেই সুবিধা পেতে পারে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও।
বিশ্বকাপের ফিফা আয়ের ভাগ পাবে বাংলাদেশ, ফুটবল উন্নয়নে আসবে অর্থ
ক্রীড়া প্রতিবেদক:
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ফিফার রেকর্ড আয় থেকে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নেও অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এই অর্থ সহায়তার আওতায় আসবে।
৪৮ দলের বিশ্বকাপ, বাড়ছে ফিফার আয়
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপের পরিধি বেড়েছে। ২০২৬ সালের আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে ৪৮টি দল।
দলসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফিফার বাণিজ্যিক আয় এবং বিশ্বকাপের পুরস্কার অর্থও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি রেকর্ড
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফা মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের তুলনায় এই অর্থ প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি।
ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশের ফুটবলেও আসতে পারে অর্থ সহায়তা
সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় করা অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশসহ সব সদস্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর ফুটবলের উন্নয়ন করাই ফিফার অন্যতম লক্ষ্য। তাই বিশ্বকাপের আর্থিক সাফল্যের একটি অংশ বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নেও কাজে লাগতে পারে।
৪৮ দলের বিশ্বকাপে নতুন সুযোগ
২০২৬ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হবে এবং তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর মধ্যেও বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর আশা তৈরি হবে।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বড় অর্থ পুরস্কার
২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল শুরুতেই প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য পাবে ২.৫ মিলিয়ন ডলার।
গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া ১৬টি দল পাবে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। ফলে তারা টুর্নামেন্ট থেকে ন্যূনতম ১২.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করবে।
ধাপে ধাপে বাড়ছে পুরস্কারের পরিমাণ
বিশ্বকাপে বিভিন্ন ধাপে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও রয়েছে বড় অঙ্কের অর্থ।
- দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া দল পাবে ১২ মিলিয়ন ডলার।
- শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়া দল পাবে ১৬ মিলিয়ন ডলার।
- কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া চার দল পাবে ২০ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয় হওয়া দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্বকাপের রানার্সআপ দল পাবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার এবং চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার।
























