ফেনীতে কিশোর অপরাধ ঠেকাতে উদ্যোগ, মাগরিবের পর শিক্ষার্থীদের বাইরে না থাকার আহ্বান
ফেনীতে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ, মাগরিবের পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেনী
ফেনীতে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরার বিষয়ে আরও সচেতন ও নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য জানান।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি প্রশাসনের আহ্বান
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জেলার শিক্ষার্থীদের মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থান বা ঘোরাফেরা না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার কিশোর অপরাধের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় বাদ দিয়ে অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করছে। তাদের একটি অংশ পরবর্তীতে মাদকের সংস্পর্শে জড়িয়ে পড়ছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এটি কোনো দমনমূলক সিদ্ধান্ত নয়
জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষার্থীদের বাইরে বের হওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। এটি কোনো দমনমূলক সিদ্ধান্তও নয়। মূল উদ্দেশ্য হলো কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী বাইরে বের হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—বিষয়টি এমন নয়। বরং সচেতনতামূলক উদ্যোগ হিসেবে মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থান নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
শুরু হয়েছে সচেতনতামূলক প্রচারণা
প্রশাসন জানায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) থেকে এ বিষয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তদারকি দল মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। পাশাপাশি পুলিশও বিষয়টি নজরদারিতে রাখবে।
প্রশাসনের আশা, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ফেনীতে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।




















