০২:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: বিনিয়োগকারীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অগ্রাধিকার খাতে বিশেষ প্রণোদনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে আমরা বিশ্ব দরবারে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি। তৈরি পোশাকশিল্পকে আরও বৈচিত্র্যময় করা হচ্ছে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নতুন মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার নীতিগত সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, “এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমাদের সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।”

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট সরকার। এসব শক্তি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং মুনাফা বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করছে।

এ ছাড়া পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, স্টার্টআপে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন, বন্দর ও লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার এফডিআই সম্ভব

সম্মেলনে প্রকাশিত ‘ফিকি এফডিআই রিপোর্ট ২০২৬’-এ বলা হয়, কার্যকর নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশে বছরে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করা সম্ভব।

প্রতিবেদনের মূল তথ্য উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়েছে।

৬০০ প্রতিনিধির অংশগ্রহণ

এফআইসিসিআইর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক এই বিনিয়োগ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ী নেতারা।

এফআইসিসিআই সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে মানসম্পন্ন বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ এবং বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ তুলে ধরতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: বিনিয়োগকারীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সময় : ০৬:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অগ্রাধিকার খাতে বিশেষ প্রণোদনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে আমরা বিশ্ব দরবারে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি। তৈরি পোশাকশিল্পকে আরও বৈচিত্র্যময় করা হচ্ছে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নতুন মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার নীতিগত সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, “এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমাদের সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।”

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট সরকার। এসব শক্তি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং মুনাফা বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করছে।

এ ছাড়া পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, স্টার্টআপে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন, বন্দর ও লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার এফডিআই সম্ভব

সম্মেলনে প্রকাশিত ‘ফিকি এফডিআই রিপোর্ট ২০২৬’-এ বলা হয়, কার্যকর নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশে বছরে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করা সম্ভব।

প্রতিবেদনের মূল তথ্য উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়েছে।

৬০০ প্রতিনিধির অংশগ্রহণ

এফআইসিসিআইর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক এই বিনিয়োগ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ী নেতারা।

এফআইসিসিআই সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে মানসম্পন্ন বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ এবং বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ তুলে ধরতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।