০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে কী হবে? জানুন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া

নিউজ ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে কী হবে, জানালেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিগগিরই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনিও গুঞ্জন শুনেছেন।

তিনি বলেন, “গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। এটা যদি ঘটনা হয়, সেটি আমরাও দেখব।”

সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বলেন, “আপনারা রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞেস করেন।”

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে বা স্বাস্থ্যগত কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে তার সেই সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কতদিন

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

পদত্যাগ করলে কার কাছে দিতে হবে পদত্যাগপত্র

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকের মতে, রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দিতে হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র সাধারণত খুব সংক্ষিপ্ত হয় এবং ব্যক্তিগত বা স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করেই তা দেওয়া হয়।

শাহদীন মালিক বলেন, পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর থেকেই তা কার্যকর হয়। এটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের কোনো আলাদা প্রক্রিয়া নেই।

পদত্যাগের পর কে দায়িত্ব পালন করবেন

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শাহদীন মালিক বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কখন হবে

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

শাহদীন মালিক বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আগের বিতর্ক

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সে সময় সংসদ বিলুপ্ত, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। তবে বিএনপি তখন রাষ্ট্রপতির পদে তার বহাল থাকার পক্ষে অবস্থান নেয়।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে তার সম্ভাব্য পদত্যাগ ও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে কী হবে? জানুন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া

সময় : ০৯:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে কী হবে, জানালেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিগগিরই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনিও গুঞ্জন শুনেছেন।

তিনি বলেন, “গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। এটা যদি ঘটনা হয়, সেটি আমরাও দেখব।”

সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বলেন, “আপনারা রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞেস করেন।”

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে বা স্বাস্থ্যগত কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে তার সেই সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কতদিন

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

পদত্যাগ করলে কার কাছে দিতে হবে পদত্যাগপত্র

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকের মতে, রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দিতে হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র সাধারণত খুব সংক্ষিপ্ত হয় এবং ব্যক্তিগত বা স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করেই তা দেওয়া হয়।

শাহদীন মালিক বলেন, পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর থেকেই তা কার্যকর হয়। এটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের কোনো আলাদা প্রক্রিয়া নেই।

পদত্যাগের পর কে দায়িত্ব পালন করবেন

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শাহদীন মালিক বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কখন হবে

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

শাহদীন মালিক বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আগের বিতর্ক

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সে সময় সংসদ বিলুপ্ত, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। তবে বিএনপি তখন রাষ্ট্রপতির পদে তার বহাল থাকার পক্ষে অবস্থান নেয়।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে তার সম্ভাব্য পদত্যাগ ও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।