০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক

গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে, বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট টুথপেস্টগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করা হবে।

এসডোর গবেষণায় উঠে আসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি

গত ২৬ জুলাই রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮টিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশসহ চার দেশের টুথপেস্টে মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

গবেষণায় পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত।

বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামের ২টির সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

একটি টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

শিশুদের টুথপেস্টেও উদ্বেগজনক তথ্য

গবেষণায় শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ৬টি টুথপেস্টও পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। বাকি দুটি নমুনায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

লেবেলে ছিল না কোনো তথ্য

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না।

গবেষকদের মতে, এতে ভোক্তারা পণ্যের প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্যও এসব পণ্যের কার্যকর তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা ভবিষ্যতে নিরাপদ টুথপেস্ট নিশ্চিত করা, মানদণ্ড নির্ধারণ, নজরদারি জোরদার এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ

সময় : ০২:২৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে, বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট টুথপেস্টগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করা হবে।

এসডোর গবেষণায় উঠে আসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি

গত ২৬ জুলাই রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮টিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশসহ চার দেশের টুথপেস্টে মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

গবেষণায় পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত।

বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামের ২টির সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

একটি টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

শিশুদের টুথপেস্টেও উদ্বেগজনক তথ্য

গবেষণায় শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ৬টি টুথপেস্টও পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। বাকি দুটি নমুনায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

লেবেলে ছিল না কোনো তথ্য

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না।

গবেষকদের মতে, এতে ভোক্তারা পণ্যের প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্যও এসব পণ্যের কার্যকর তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা ভবিষ্যতে নিরাপদ টুথপেস্ট নিশ্চিত করা, মানদণ্ড নির্ধারণ, নজরদারি জোরদার এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।