০৭:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ ভারতে, দ্রুত বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার তাগিদ

নিউজ ডেস্ক

গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছে ভারতের সংসদীয় কমিটি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি।

সম্প্রতি সংসদে উপস্থাপিত পঞ্চদশ অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টে কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন কমিটি সতর্ক করে জানিয়েছে, সময়মতো আলোচনা শুরু না হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

চুক্তি নবায়নে দ্রুত আলোচনার আহ্বান

সংসদীয় কমিটির মতে, গঙ্গার পানি বণ্টন শুধু একটি কারিগরি বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশ ও ভারতের কোটি মানুষের কৃষি, জীবিকা এবং সুপেয় পানির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের রাজনীতিতেও এই ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিটি।

সরকারের প্রস্তুতিতে অসন্তোষ

কমিটি জানায়, তারা আগেই ২০২৬ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আলোচনা শুরু করার সুপারিশ করেছিল।

এ ছাড়া সরকারকে—

  • হালনাগাদ জলবায়ু তথ্য বিশ্লেষণ,
  • হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা পর্যালোচনা,
  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সঙ্গে পরামর্শ,
  • এবং আলোচনার কৌশল প্রস্তুতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

তিস্তা চুক্তির অগ্রগতি নিয়েও হতাশা

গঙ্গা চুক্তির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছে কমিটি।

তাদের মতে, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকের তথ্য না দিয়ে বাস্তব অগ্রগতি ও সুনির্দিষ্ট ফলাফল তুলে ধরা প্রয়োজন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাবের আশঙ্কা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পানি বণ্টনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের সুযোগ থাকলেও এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিলম্ব ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে বলে মত দিয়েছে কমিটি।

৩৩ সুপারিশের মধ্যে ৮টির পূর্ণাঙ্গ জবাব মেলেনি

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ৩৩টি সুপারিশের মধ্যে ভারত সরকার ২৫টি গ্রহণ করলেও গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এবং নদী সহযোগিতা সংক্রান্ত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ জবাব দেয়নি।

কমিটির ভাষ্য, এখন আর শুধু প্রথাগত পর্যালোচনা বা নিয়মিত বৈঠকের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; দ্রুত অর্থবহ আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।

গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ ভারতে, দ্রুত বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার তাগিদ

সময় : ০৭:১৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি।

সম্প্রতি সংসদে উপস্থাপিত পঞ্চদশ অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টে কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন কমিটি সতর্ক করে জানিয়েছে, সময়মতো আলোচনা শুরু না হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

চুক্তি নবায়নে দ্রুত আলোচনার আহ্বান

সংসদীয় কমিটির মতে, গঙ্গার পানি বণ্টন শুধু একটি কারিগরি বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশ ও ভারতের কোটি মানুষের কৃষি, জীবিকা এবং সুপেয় পানির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের রাজনীতিতেও এই ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিটি।

সরকারের প্রস্তুতিতে অসন্তোষ

কমিটি জানায়, তারা আগেই ২০২৬ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আলোচনা শুরু করার সুপারিশ করেছিল।

এ ছাড়া সরকারকে—

  • হালনাগাদ জলবায়ু তথ্য বিশ্লেষণ,
  • হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা পর্যালোচনা,
  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সঙ্গে পরামর্শ,
  • এবং আলোচনার কৌশল প্রস্তুতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

তিস্তা চুক্তির অগ্রগতি নিয়েও হতাশা

গঙ্গা চুক্তির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছে কমিটি।

তাদের মতে, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকের তথ্য না দিয়ে বাস্তব অগ্রগতি ও সুনির্দিষ্ট ফলাফল তুলে ধরা প্রয়োজন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাবের আশঙ্কা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পানি বণ্টনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের সুযোগ থাকলেও এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিলম্ব ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে বলে মত দিয়েছে কমিটি।

৩৩ সুপারিশের মধ্যে ৮টির পূর্ণাঙ্গ জবাব মেলেনি

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ৩৩টি সুপারিশের মধ্যে ভারত সরকার ২৫টি গ্রহণ করলেও গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এবং নদী সহযোগিতা সংক্রান্ত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ জবাব দেয়নি।

কমিটির ভাষ্য, এখন আর শুধু প্রথাগত পর্যালোচনা বা নিয়মিত বৈঠকের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; দ্রুত অর্থবহ আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।