র্যাব বিলুপ্ত, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এসআরবির কার্যক্রম শুরু
র্যাব বিলুপ্তির পর নতুন আইনের অধীনে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: এলিট ফোর্স র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠন করা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়।
নতুন আইনের অধীনে গঠিত এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। তবে র্যাবের জনবল, বিদ্যমান সুবিধা, অর্থ, সম্পদ, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রশাসনিক উপাদান নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
নাম ও পরিচিতিতে পরিবর্তন
এসআরবি নামে কার্যক্রম শুরু হলেও বাহিনীর লোগো, পতাকা, মনোগ্রাম ও পোশাক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। এসআরবির মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, সরকারি অনুমোদনের পর এসব পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।
ইতোমধ্যে বাহিনীর সরকারি যোগাযোগে ‘র্যাব’-এর পরিবর্তে ‘এসআরবি’ নাম ব্যবহার শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আগের লোগোর নকশা ব্যবহার করেই সেখানে ‘SRB Bangladesh’ লেখা দেখা গেছে।
যা যা এসআরবিতে স্থানান্তর হয়েছে
এসআরবি আইনে র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব, বিদ্যমান স্থাপনা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক হিসাব, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, রেজিস্টার, নথি ও অন্যান্য রেকর্ড নতুন বাহিনীর অধীনে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও সম্পদ জব্দের মতো ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন
র্যাব যে আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হতো, সেই কাঠামো থেকে আলাদা হয়ে এসআরবি নিজস্ব আইন—স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬-এর অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে র্যাব-সংক্রান্ত আগের কিছু বিভাগীয় ও আদালত-সংক্রান্ত কার্যক্রম নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী বহাল থাকবে।
নতুন আইনে নাগরিকদের অভিযোগ এবং বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য অভিযোগ প্রতিকার কমিটির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জবাবদিহি ও মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা
এসআরবি গঠনের আগে ও সংসদে বিল পাসের সময় র্যাবের জনবল, সম্পদ ও ক্ষমতা নতুন বাহিনীতে স্থানান্তর নিয়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজে প্রশ্ন উঠেছিল। সমালোচকদের একটি অংশের বক্তব্য, পুরোনো জনবল ও অবকাঠামোর বড় অংশ বহাল থাকায় নতুন বাহিনীর কার্যক্রমে কতটা মৌলিক পরিবর্তন আসবে, তা পর্যবেক্ষণের বিষয়।
অন্যদিকে সরকার বলেছে, এসআরবি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে গঠিত একটি পৃথক বিশেষায়িত বাহিনী এবং এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এসআরবির মহাপরিচালকও সদস্যদের আইন মেনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ
র্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। নতুন এসআরবি গঠনের পর এসব নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ এবং নতুন বাহিনীর কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে কি না—এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে শুধু নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হয়—এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
র্যাব ২০০৪ সালে বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে বাহিনীটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে এবং এসব নিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যায়ে সমালোচনা হয়েছে।
এখন র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। নতুন আইনের বাস্তব প্রয়োগ, জবাবদিহি এবং বাহিনীর কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।























