১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে শিক্ষার্থী আহত, দুই ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

মৌলভীবাজারের হামহাম জলপ্রপাত এলাকায় আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে পিছলে আহত শিক্ষার্থী, দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার

৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের অভিযান, নিরাপদে ফিরলেন ১০ পর্যটক

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী। পাহাড়ি পথে পিছলে পড়ে হাতে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের হামহাম জলপ্রপাত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীর নাম তানভীর আহমদ অনিক (২৯)। তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

পিচ্ছিল পথে পড়ে আহত হন শিক্ষার্থী

ফায়ার সার্ভিস ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকালে ঢাকা থেকে ১০ জনের একটি দল হামহাম জলপ্রপাত দেখতে যায়।

টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ছড়া ও পাথর পিচ্ছিল হয়ে থাকায় জলপ্রপাতের দিকে যাওয়ার পথে বেলা আড়াইটার দিকে তানভীর আহমদ পিছলে পড়ে যান। এতে তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে।

দুর্গম পাহাড়ি পথ হওয়ায় তিনি নিজে হেঁটে ফিরে আসতে পারছিলেন না। পরে সহপাঠীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চান।

ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ কৌশলে উদ্ধার

কমলগঞ্জ থানা-পুলিশ বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি জানতে পারে। পরে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে ১০ পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। আহত তানভীর আহমদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া অন্য ৯ শিক্ষার্থী সুস্থ ছিলেন। পরে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।

বাঁশ ও বস্তা দিয়ে তৈরি করা হয় স্ট্রেচার

শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার আকতার হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে উদ্ধারপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, আহত শিক্ষার্থীকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটিয়ে আনা সম্ভব না হওয়ায় ঘটনাস্থলেই বাঁশ, বস্তা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে অস্থায়ী স্ট্রেচার তৈরি করা হয়। পরে সতর্কতার সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়।

বর্ষায় পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতার পরামর্শ

ট্যুরিস্ট পুলিশের শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক প্রজিত কুমার দাস বলেন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, চিকিৎসা শেষে পর্যটক দল নিরাপদে ফিরে গেছে। পাশাপাশি বর্ষাকালে হামহামসহ পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে শিক্ষার্থী আহত, দুই ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার

সময় : ০৮:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে পিছলে আহত শিক্ষার্থী, দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার

৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের অভিযান, নিরাপদে ফিরলেন ১০ পর্যটক

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী। পাহাড়ি পথে পিছলে পড়ে হাতে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের হামহাম জলপ্রপাত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীর নাম তানভীর আহমদ অনিক (২৯)। তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

পিচ্ছিল পথে পড়ে আহত হন শিক্ষার্থী

ফায়ার সার্ভিস ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকালে ঢাকা থেকে ১০ জনের একটি দল হামহাম জলপ্রপাত দেখতে যায়।

টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ছড়া ও পাথর পিচ্ছিল হয়ে থাকায় জলপ্রপাতের দিকে যাওয়ার পথে বেলা আড়াইটার দিকে তানভীর আহমদ পিছলে পড়ে যান। এতে তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে।

দুর্গম পাহাড়ি পথ হওয়ায় তিনি নিজে হেঁটে ফিরে আসতে পারছিলেন না। পরে সহপাঠীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চান।

ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ কৌশলে উদ্ধার

কমলগঞ্জ থানা-পুলিশ বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি জানতে পারে। পরে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে ১০ পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। আহত তানভীর আহমদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া অন্য ৯ শিক্ষার্থী সুস্থ ছিলেন। পরে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।

বাঁশ ও বস্তা দিয়ে তৈরি করা হয় স্ট্রেচার

শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার আকতার হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে উদ্ধারপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, আহত শিক্ষার্থীকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটিয়ে আনা সম্ভব না হওয়ায় ঘটনাস্থলেই বাঁশ, বস্তা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে অস্থায়ী স্ট্রেচার তৈরি করা হয়। পরে সতর্কতার সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়।

বর্ষায় পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতার পরামর্শ

ট্যুরিস্ট পুলিশের শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক প্রজিত কুমার দাস বলেন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, চিকিৎসা শেষে পর্যটক দল নিরাপদে ফিরে গেছে। পাশাপাশি বর্ষাকালে হামহামসহ পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।