জুলাই হামলা মামলায় শীর্ষ মাদক কারবারি কালাম জেলহাজতে
জুলাই হামলা মামলায় শীর্ষ মাদক কারবারি কালাম কারাগারে
গোদাগাড়ীর আবুল কালামকে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর আলোচিত মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদ (৪৬) কে জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২১ জুলাই) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গোদাগাড়ীতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে কালামের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সেই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বাড়ি থেকে আটক ডিবি পুলিশের অভিযানে
রোববার রাতে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিষালবাড়ির শিবসাগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কালামকে আটক করে।
পরে তাকে গোদাগাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়। সোমবার সকালে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জুলাই আন্দোলনে গোদাগাড়ীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তদন্তে কালামের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী তাকে ওই মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কালামের বিরুদ্ধে থাকা মাদক মামলাগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
মাদক মামলায় রয়েছে একাধিক অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক সংক্রান্ত সাতটি মামলা রয়েছে। ঢাকার একটি মাদক মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল বলেও জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালাম দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও হেরোইনের কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঢাকায় অবস্থানকালে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
থানায় ওসির সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি ভাইরাল
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে গোদাগাড়ী থানায় যান কালাম। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে অপেক্ষারত অবস্থার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি
স্থানীয়দের দাবি, কালাম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে তার কোনো পদ-পদবি নেই।
জুলাই আন্দোলনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কালামের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে তিনি এলাকায় ফিরে আসেন।
মাদক কারবারে জড়ানোর অভিযোগ
স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলায় কালাম সীমান্ত পথে ভারত থেকে লবণ ও চিনি এনে বিক্রি করতেন। পরে ধীরে ধীরে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের দাবি, নব্বইয়ের দশকে হেরোইনের বাহক হিসেবে কাজ করার পর একসময় নিজেই মাদক ব্যবসা শুরু করেন। ঢাকায় অবস্থানকালে মাদকসহ একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার কথাও জানান স্থানীয়রা।
ওসির বক্তব্য
গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, কালাম থানায় এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন—এমন তথ্য তিনি জানেন না।
তিনি বলেন, কালামের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পারিবারিক মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে কেউ থানায় এসেছিল কি না, তা তার জানা নেই।
আদালতে পাঠানো হয়েছে
ডিবি পুলিশ আটকের পর কালামকে গোদাগাড়ী থানায় হস্তান্তর করে। পরে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

























