০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মার্টফোনে আসক্তি কমানোর ৭ কার্যকর উপায়, সময় বাঁচাতে বদলান অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক

সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে স্মার্টফোনের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব। প্রতীকী ছবি।

স্মার্টফোনে আসক্তি কমানোর ৭ কার্যকর উপায়

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রয়োজনের পাশাপাশি অবসর সময়েও অনেকেই অজান্তেই বারবার ফোন হাতে তুলে নেন, একই নোটিফিকেশন বারবার দেখেন বা উদ্দেশ্যহীনভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটান। এর ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতাও কমে যায়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে এই নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

১. ফোন ব্যবহারের সময় পর্যবেক্ষণ করুন

স্মার্টফোনে থাকা Screen Time বা Digital Wellbeing–এর মতো ফিচার কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতিদিন কত সময় ফোনে কাটছে এবং কোন অ্যাপে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করুন। এতে নিজের অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হওয়া সহজ হবে।

২. অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন

অকারণে আসা নোটিফিকেশন মনোযোগ নষ্ট করে এবং বারবার ফোন চেক করার অভ্যাস তৈরি করে। তাই জরুরি নয় এমন অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানো সম্ভব।

৩. অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করুন

অনেকেই ঘুম থেকে ওঠার জন্য ফোনের অ্যালার্ম ব্যবহার করেন। এতে দিনের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই আলাদা অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করা বা রাতে ফোন দূরে রেখে ঘুমানোর অভ্যাস উপকারী হতে পারে।

৪. কিছু সময়ের জন্য ফোন থেকে বিরতি নিন

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোনের ব্যবহার সীমিত করলে অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা কমে। শুরুতে প্রয়োজনীয় কল ও বার্তার মধ্যেই ব্যবহার সীমাবদ্ধ রেখে ধীরে ধীরে নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

৫. প্রতিদিন প্রযুক্তিমুক্ত সময় নির্ধারণ করুন

দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। এ সময় পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গল্প করা কিংবা বিশ্রাম নেওয়া মানসিক স্বস্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

৬. শখের কাজে মনোযোগ দিন

বই পড়া, শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি, পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার মতো অভ্যাস ফোনের ওপর নির্ভরতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

৭. ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ ফিচার ব্যবহার করুন

বেশিরভাগ স্মার্টফোনেই Do Not Disturb মোড রয়েছে। কাজ, পড়াশোনা, বিশ্রাম বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় এই ফিচার চালু রাখলে অপ্রয়োজনীয় কল ও নোটিফিকেশন থেকে সহজেই মুক্ত থাকা যায়।

সচেতন ব্যবহারই হতে পারে সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন। সচেতনভাবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে ফোনের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে, সময়ের অপচয় হ্রাস পাবে এবং ব্যক্তিগত জীবন আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠবে।

স্মার্টফোনে আসক্তি কমানোর ৭ কার্যকর উপায়, সময় বাঁচাতে বদলান অভ্যাস

সময় : ০৬:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

স্মার্টফোনে আসক্তি কমানোর ৭ কার্যকর উপায়

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রয়োজনের পাশাপাশি অবসর সময়েও অনেকেই অজান্তেই বারবার ফোন হাতে তুলে নেন, একই নোটিফিকেশন বারবার দেখেন বা উদ্দেশ্যহীনভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটান। এর ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতাও কমে যায়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে এই নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

১. ফোন ব্যবহারের সময় পর্যবেক্ষণ করুন

স্মার্টফোনে থাকা Screen Time বা Digital Wellbeing–এর মতো ফিচার কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতিদিন কত সময় ফোনে কাটছে এবং কোন অ্যাপে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করুন। এতে নিজের অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হওয়া সহজ হবে।

২. অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন

অকারণে আসা নোটিফিকেশন মনোযোগ নষ্ট করে এবং বারবার ফোন চেক করার অভ্যাস তৈরি করে। তাই জরুরি নয় এমন অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানো সম্ভব।

৩. অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করুন

অনেকেই ঘুম থেকে ওঠার জন্য ফোনের অ্যালার্ম ব্যবহার করেন। এতে দিনের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই আলাদা অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করা বা রাতে ফোন দূরে রেখে ঘুমানোর অভ্যাস উপকারী হতে পারে।

৪. কিছু সময়ের জন্য ফোন থেকে বিরতি নিন

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোনের ব্যবহার সীমিত করলে অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা কমে। শুরুতে প্রয়োজনীয় কল ও বার্তার মধ্যেই ব্যবহার সীমাবদ্ধ রেখে ধীরে ধীরে নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

৫. প্রতিদিন প্রযুক্তিমুক্ত সময় নির্ধারণ করুন

দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। এ সময় পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গল্প করা কিংবা বিশ্রাম নেওয়া মানসিক স্বস্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

৬. শখের কাজে মনোযোগ দিন

বই পড়া, শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি, পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার মতো অভ্যাস ফোনের ওপর নির্ভরতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

৭. ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ ফিচার ব্যবহার করুন

বেশিরভাগ স্মার্টফোনেই Do Not Disturb মোড রয়েছে। কাজ, পড়াশোনা, বিশ্রাম বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় এই ফিচার চালু রাখলে অপ্রয়োজনীয় কল ও নোটিফিকেশন থেকে সহজেই মুক্ত থাকা যায়।

সচেতন ব্যবহারই হতে পারে সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন। সচেতনভাবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে ফোনের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে, সময়ের অপচয় হ্রাস পাবে এবং ব্যক্তিগত জীবন আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠবে।