১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারী বৃষ্টিতে ১০ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, বাড়তে পারে নদীর পানি

নিউজ ডেস্ক

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ঢাকা প্রতিনিধি:

দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী দুই দিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর প্রভাবে দেশের ১০ জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।

কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়, বর্তমানে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

একই সময়ে ধরলা নদীর পানিও কিছু স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। এ সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী তিন দিনে তা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোনার কিছু স্থানে সোমেশ্বরী নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সেখানে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

ভুগাই ও কংস নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী দুই দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

ভারী বৃষ্টিতে ১০ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, বাড়তে পারে নদীর পানি

সময় : ০৫:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা প্রতিনিধি:

দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী দুই দিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর প্রভাবে দেশের ১০ জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।

কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়, বর্তমানে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

একই সময়ে ধরলা নদীর পানিও কিছু স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। এ সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী তিন দিনে তা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোনার কিছু স্থানে সোমেশ্বরী নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সেখানে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

ভুগাই ও কংস নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী দুই দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।