০৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মরিয়মের মৃত্যুর মামলা: এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী আদালতে, ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

নিউজ ডেস্ক

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

আদালত প্রতিবেদক: রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেওয়া হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। হাজতখানার ইনচার্জ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোর্শেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। সোমবারই এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়ে

মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে এসব বিষয় পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাসার একটি কক্ষে মরিয়মকে ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরিয়ম যে কক্ষে ছিলেন, সেখান থেকে তাঁর লেখা কয়েকটি চিরকুট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

এর আগে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলা করেছিলেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। গাজী নজরুল ইসলাম ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন।

বর্তমানে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের।

মরিয়মের মৃত্যুর মামলা: এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী আদালতে, ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

সময় : ০২:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদালত প্রতিবেদক: রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেওয়া হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। হাজতখানার ইনচার্জ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোর্শেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। সোমবারই এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়ে

মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে এসব বিষয় পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাসার একটি কক্ষে মরিয়মকে ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরিয়ম যে কক্ষে ছিলেন, সেখান থেকে তাঁর লেখা কয়েকটি চিরকুট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

এর আগে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলা করেছিলেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। গাজী নজরুল ইসলাম ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন।

বর্তমানে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের।