০৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বারিধারায় নির্মাণশ্রমিক হত্যা: ৯ লাখ টাকায় আপস, জামিনে আপত্তি নেই পরিবারের

নিউজ ডেস্ক

বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম নিহতের ঘটনায় ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে বলে জানিয়েছে আসামিপক্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। আপসনামায় সই করে আসামির জামিন বা খালাসে কোনো আপত্তি নেই বলে নিহতের পরিবার জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতকে আপসের বিষয়টি জানান।

আইনজীবী আলমগীর হোসেন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই টাকা নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। আপসনামায় সই করে তারা আসামির জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নিহত মেহেদী বাক্‌প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং কানে শুনতে পেতেন না। দুর্ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা অভিযোগ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং নিহতের মা-বাবা বয়স্ক হওয়ায় তাঁদের দেখাশোনার বিষয়টিও আপসের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।

আপসনামাটি কোথায় করা হয়েছে জানতে চাইলে আলমগীর হোসেন বলেন, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান শান্তা মরিয়মের কার্যালয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আপস হয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিহতের মামা ও ভাই এবং আসামিপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের পরিবারকে কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, তাঁদের কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়নি। পরিবার ৯ লাখ টাকা নিয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত করাতেও আপত্তি ছিল এবং তাঁরা মামলা করতে চাননি বলে দাবি করেন আইনজীবী। মামলা কীভাবে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণে পুলিশ মামলা করেছে।

একটি জীবনের মূল্য ৯ লাখ টাকা হতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর হোসেন বলেন, নিহত ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাদীপক্ষ আপস করতে চেয়েছে। তাঁরা ১০ লাখ টাকা দাবি করলেও পরে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদী হাসান মীমকে একটি প্রাইভেটকার চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর গাড়িতে থাকা কিশোর আজান আলী শরীফকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণের পর তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর বৃহস্পতিবার আদালত তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪)-এর নাম উল্লেখ করা হয়। তবে ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে কিশোরটি ছিল কি না, তা নিয়ে মামলার পর প্রশ্ন ওঠে এবং পরবর্তী তদন্তে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ।

তবে আপসের বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরেফীন ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, আপসের বিষয়টি তদন্তে প্রভাব ফেলবে না এবং তাঁরা নিজেদের মতো করে তদন্ত চালিয়ে যাবেন।

বারিধারায় নির্মাণশ্রমিক হত্যা: ৯ লাখ টাকায় আপস, জামিনে আপত্তি নেই পরিবারের

সময় : ০৫:০২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। আপসনামায় সই করে আসামির জামিন বা খালাসে কোনো আপত্তি নেই বলে নিহতের পরিবার জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতকে আপসের বিষয়টি জানান।

আইনজীবী আলমগীর হোসেন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই টাকা নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। আপসনামায় সই করে তারা আসামির জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নিহত মেহেদী বাক্‌প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং কানে শুনতে পেতেন না। দুর্ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা অভিযোগ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং নিহতের মা-বাবা বয়স্ক হওয়ায় তাঁদের দেখাশোনার বিষয়টিও আপসের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।

আপসনামাটি কোথায় করা হয়েছে জানতে চাইলে আলমগীর হোসেন বলেন, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান শান্তা মরিয়মের কার্যালয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আপস হয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিহতের মামা ও ভাই এবং আসামিপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের পরিবারকে কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, তাঁদের কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়নি। পরিবার ৯ লাখ টাকা নিয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত করাতেও আপত্তি ছিল এবং তাঁরা মামলা করতে চাননি বলে দাবি করেন আইনজীবী। মামলা কীভাবে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণে পুলিশ মামলা করেছে।

একটি জীবনের মূল্য ৯ লাখ টাকা হতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর হোসেন বলেন, নিহত ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাদীপক্ষ আপস করতে চেয়েছে। তাঁরা ১০ লাখ টাকা দাবি করলেও পরে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদী হাসান মীমকে একটি প্রাইভেটকার চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর গাড়িতে থাকা কিশোর আজান আলী শরীফকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণের পর তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর বৃহস্পতিবার আদালত তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪)-এর নাম উল্লেখ করা হয়। তবে ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে কিশোরটি ছিল কি না, তা নিয়ে মামলার পর প্রশ্ন ওঠে এবং পরবর্তী তদন্তে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ।

তবে আপসের বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরেফীন ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, আপসের বিষয়টি তদন্তে প্রভাব ফেলবে না এবং তাঁরা নিজেদের মতো করে তদন্ত চালিয়ে যাবেন।