১০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নিউজ ডেস্ক

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফুটপাতে বসা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। অভিযানকালে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফুটপাতে বসা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। একইভাবে পুলিশের সদস্যদের সঙ্গেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংবাদ সংগ্রহে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদেরও বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াত আমির বলেন, এই আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে জনগণ তাদের ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন। জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি আরও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করে এমন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন ও ব্যবহারোপযোগী থাকে। এজন্য সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, মাসের পর মাস ধরে একদল অসাধু ও চাঁদাবাজ ব্যক্তি এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে তাদের সেখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এর আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর পড়ে।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য কল্যাণকর হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, এ বিষয়ে তারও দায়িত্ব রয়েছে এবং তাকে সম্পৃক্ত করা যেত। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি কার্যকর পথ বের করা সম্ভব ছিল, কিন্তু সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হলে আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।

ভবিষ্যতে এ ধরনের যে কোনো পদক্ষেপ যেন সমন্বিতভাবে নেওয়া হয় এবং সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয়—এটাই সমস্যার সমাধানের একটি কার্যকর পন্থা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে ডা. শফিকুর রহমান সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেখানেই সমস্যা রয়েছে, সেখানেই সমাধানের পথও রয়েছে। তবে সেই সমাধান নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক হতে হবে এবং কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো জায়গা নেই।’

মিরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের

সময় : ০৪:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফুটপাতে বসা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। অভিযানকালে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফুটপাতে বসা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। একইভাবে পুলিশের সদস্যদের সঙ্গেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংবাদ সংগ্রহে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদেরও বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াত আমির বলেন, এই আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে জনগণ তাদের ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন। জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি আরও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করে এমন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন ও ব্যবহারোপযোগী থাকে। এজন্য সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, মাসের পর মাস ধরে একদল অসাধু ও চাঁদাবাজ ব্যক্তি এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে তাদের সেখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এর আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর পড়ে।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য কল্যাণকর হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, এ বিষয়ে তারও দায়িত্ব রয়েছে এবং তাকে সম্পৃক্ত করা যেত। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি কার্যকর পথ বের করা সম্ভব ছিল, কিন্তু সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হলে আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।

ভবিষ্যতে এ ধরনের যে কোনো পদক্ষেপ যেন সমন্বিতভাবে নেওয়া হয় এবং সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয়—এটাই সমস্যার সমাধানের একটি কার্যকর পন্থা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে ডা. শফিকুর রহমান সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেখানেই সমস্যা রয়েছে, সেখানেই সমাধানের পথও রয়েছে। তবে সেই সমাধান নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক হতে হবে এবং কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো জায়গা নেই।’