১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে টাকা নিয়ে লিবিয়ায় আটকে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ১

নিউজ ডেস্ক

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় আটকে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর লিবিয়ায় পাঠিয়ে আটকে রেখে আরও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে মো. আবুল হোসেন (৬৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানাধীন কাড়িহাতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের বান্দুমিয়ার ছেলে।

সিআইডি জানায়, মামলার বাদীকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন। পরে ২০২৪ সালের ১২ জুন তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর মানব পাচার চক্রের সহযোগীরা তাকে একটি স্থানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় তাকে আরও নির্যাতন করা হয় বলে বাদিনী অভিযোগ করেছেন।

একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ওই স্থান থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন তিনি। পরে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে এবং ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলাটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারায় করা হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রেপ্তার আবুল হোসেনের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।

সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তার আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের একই ধারায় আরও একটি মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর করা ওই মামলাতেও তিনি এজাহারনামীয় আসামি।

গ্রেপ্তার আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে টাকা নিয়ে লিবিয়ায় আটকে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ১

সময় : ০৫:১৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর লিবিয়ায় পাঠিয়ে আটকে রেখে আরও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে মো. আবুল হোসেন (৬৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানাধীন কাড়িহাতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের বান্দুমিয়ার ছেলে।

সিআইডি জানায়, মামলার বাদীকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন। পরে ২০২৪ সালের ১২ জুন তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর মানব পাচার চক্রের সহযোগীরা তাকে একটি স্থানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় তাকে আরও নির্যাতন করা হয় বলে বাদিনী অভিযোগ করেছেন।

একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ওই স্থান থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন তিনি। পরে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে এবং ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলাটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারায় করা হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রেপ্তার আবুল হোসেনের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।

সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তার আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের একই ধারায় আরও একটি মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর করা ওই মামলাতেও তিনি এজাহারনামীয় আসামি।

গ্রেপ্তার আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।