০৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমেছে, রেথিয়নের সঙ্গে ২২.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

নিউজ ডেস্ক

ইরান যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর মজুত পূরণে রেথিয়নের সঙ্গে ২২.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমে এসেছে। এই ঘাটতি পূরণে দেশটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রেথিয়নের সঙ্গে ২২.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর আরব নিউজের।

পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশপথ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে।

মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, চুক্তিটির লক্ষ্য হলো ‘স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬’ বা এসএম-৬ ইন্টারসেপ্টরের নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। এই ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার কাজেও ব্যবহার করা যায়।

পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই চুক্তি প্রতিরক্ষা শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দেবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জনবল ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে পারবে।

দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে ঠিকাদারদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য চলতি বছর পেন্টাগনের করা বড় সামরিক চুক্তিগুলোর সর্বশেষ সংযোজন এটি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য রেথিয়নের সঙ্গে ২০.৭ বিলিয়ন ডলারের এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের জন্য লকহিড মার্টিনের সঙ্গে ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে পেন্টাগন।

অস্ত্র উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব চুক্তি করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শিল্প খাতের নির্বাহীরা সতর্ক করেছেন, মার্কিন কংগ্রেস এখনো এসব চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করেনি। ফলে আইনপ্রণেতারা চূড়ান্ত অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারদের পক্ষে বড় আকারের বিনিয়োগ করা কঠিন হতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গত মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে গোলাবারুদ সরবরাহের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে।

এ ছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের এক প্রতিবেদনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জামের ওপর বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে আগামী কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সাত মাস পরও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের ওপর পুনরায় বোমা হামলা শুরুর আশা করছেন তিনি। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি পরিমাণে গোলাবারুদ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।

ইরান যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমেছে, রেথিয়নের সঙ্গে ২২.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

সময় : ০২:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমে এসেছে। এই ঘাটতি পূরণে দেশটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রেথিয়নের সঙ্গে ২২.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর আরব নিউজের।

পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশপথ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে।

মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, চুক্তিটির লক্ষ্য হলো ‘স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬’ বা এসএম-৬ ইন্টারসেপ্টরের নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। এই ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার কাজেও ব্যবহার করা যায়।

পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই চুক্তি প্রতিরক্ষা শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দেবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জনবল ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে পারবে।

দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে ঠিকাদারদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য চলতি বছর পেন্টাগনের করা বড় সামরিক চুক্তিগুলোর সর্বশেষ সংযোজন এটি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য রেথিয়নের সঙ্গে ২০.৭ বিলিয়ন ডলারের এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের জন্য লকহিড মার্টিনের সঙ্গে ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে পেন্টাগন।

অস্ত্র উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব চুক্তি করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শিল্প খাতের নির্বাহীরা সতর্ক করেছেন, মার্কিন কংগ্রেস এখনো এসব চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করেনি। ফলে আইনপ্রণেতারা চূড়ান্ত অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারদের পক্ষে বড় আকারের বিনিয়োগ করা কঠিন হতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গত মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে গোলাবারুদ সরবরাহের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে।

এ ছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের এক প্রতিবেদনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জামের ওপর বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে আগামী কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সাত মাস পরও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের ওপর পুনরায় বোমা হামলা শুরুর আশা করছেন তিনি। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি পরিমাণে গোলাবারুদ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।