শাবিপ্রবিতে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের শাস্তি কমানোর দাবিতে মানববন্ধন
শাবিপ্রবিতে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের শাস্তি কমানোর দাবিতে মানববন্ধন
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)-এ এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় একাডেমিক শাস্তিপ্রাপ্ত ও ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত দুই নেতার শাস্তি পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীও উপস্থিত ছিলেন।
শাস্তি পুনর্বিবেচনার দাবি
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, শাস্তিপ্রাপ্ত দুই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন তাদের একাডেমিক শাস্তি পুনর্বিবেচনা করে।
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় আহসান বলেন, গত ১৮ জুলাই সহপাঠী ও জুনিয়রের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক উত্তেজনা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে যায়। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত দুজন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হওয়ায় তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে শাস্তি কমানো উচিত।
পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, অভিযুক্তরা ভুল করেছেন, তবে তাদের পরিবার ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে আরেকটি সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে শাস্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
মারধরের অভিযোগ যেভাবে
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই শাহপরাণ হলের ক্যানটিনের খাবারের মান নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্য করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার।
এর জেরে ১৮ জুলাই রাতে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং একই বর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। ১৯ জুলাই ছাত্রদল অভিযুক্ত দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে চার সেমিস্টারের জন্য একাডেমিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

























