এসএসসির ফলে পাসের হার ও জিপিএ–৫ এ শীর্ষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ–৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা: ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের ফলে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পাসের হার ও জিপিএ–৫ প্রাপ্তিতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পরীক্ষার ফল শিক্ষামন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
পাসের হার ও জিপিএ–৫ এ শীর্ষে ঢাকা
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এগিয়ে রয়েছে। ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন শিক্ষার্থী।
অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, জিপিএ–৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন।
যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, জিপিএ–৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন।
বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, জিপিএ–৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন।
১১ বোর্ডে পাস ৬২.২৫ শতাংশ
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী।
এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এবার পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
২০২৬ সালে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। গত বছর জিপিএ–৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন।
কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের ফল
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থী।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ–৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন পরীক্ষার্থী।
শতভাগ পাস ৬৬৯ প্রতিষ্ঠানে
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই অনুত্তীর্ণ হয়েছে।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। গত বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি এবং শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। ফলে এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে এবং শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।
শূন্য পাসের ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
একাদশে ভর্তি হবে ফল ও পছন্দক্রম অনুযায়ী
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম অনুযায়ী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
তিন সপ্তাহ পর প্রকাশ হলো ফল
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী।
অনলাইনে যেভাবে এসএসসির ফল দেখা যাবে
শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল দেখতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলোও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল দেখতে বোর্ডের ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট শিট দেখা ও ডাউনলোড করা যাবে।
এসএমএসে এসএসসির ফল দেখার নিয়ম
এসএমএসের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার ফল জানতে ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে মেসেজ পাঠানো যাবে।
এ ক্ষেত্রে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে:
SSC [বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর] [রোল নম্বর] [২০২৬]
উদাহরণ: SSC DHA 123456 2026
এরপর মেসেজটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ফল
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ফল জানতে প্রিরেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফল পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য লিখতে হবে:
Dakhil MAD 123456 2026
এটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রিরেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে ফলাফল পৌঁছে যাবে।
কারিগরি শিক্ষার্থীদের ফল
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে লিখবে:
SSC TEC 123456 2026
এটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফলাফল পাওয়া যাবে।
শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও পরীক্ষার ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
























