০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাসের মালিক ও সাংবাদিকসহ আসামি ৭০, গ্রেপ্তার ১

নিউজ ডেস্ক

সাভারে বাসে অগ্নিসংযোগের মামলায় বাসের মালিক ও সাংবাদিকসহ ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার সাভারে সড়কের পাশে থামা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বাসের মালিক, সাংবাদিকসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে আসামিদের সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে আছেন হাবিবুর রহমান ওরফে হৃদয় (২৫)। এজাহারে তাঁকে সাভার পরিবহনের মালিক, ছাত্রলীগ সমর্থক এবং ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামানকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য ও টাইমস অব বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার। কামরুজ্জামান জানান, তিনি ঢাকায় থাকেন এবং সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক) ছিল। গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত না থাকলেও তাঁকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে যা বলা হয়েছে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সোমবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে সাভারের রেডিও কলোনি ইউটার্নে অবস্থান করছিলেন এসআই আব্বাস উদ্দিন। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, রেডিও কলোনি স্টাফ কোয়ার্টারের অদূরে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে ছাত্রলীগের লোকজন পেট্রলবোমাসহ একটি বাসে আগুন দেওয়ার লক্ষ্যে জড়ো হয়েছেন। পুলিশসহ তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান ৬০ থেকে ৭০ জন একটি বাসে পেট্রলবোমা মেরে অগ্নিসংযোগ করছেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামি হাবিবুর রহমান অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁর সাভার পরিবহন বাসটির ইঞ্জিন ও গিয়ার বক্স ছাড়া রাস্তার পাশে পার্কিং করে রেখেছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জং এবং বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মণ্ডলের নির্দেশে ও সহায়তায় হাবিবুর রহমান অন্য আসামিদের জড়ো করে বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করেছেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতেই সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের আকরাইন বাজার এলাকা থেকে সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেছেন।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

ডিআরইউর প্রতিবাদ বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাংবাদিক কামরুজ্জামানকে আসামি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান এক বিবৃতিতে জানান, কামরুজ্জামান খান দীর্ঘদিন ধরে সাভারে বসবাস করেন না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো সাংবাদিককে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।

সাভারে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাসের মালিক ও সাংবাদিকসহ আসামি ৭০, গ্রেপ্তার ১

সময় : ০৪:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার সাভারে সড়কের পাশে থামা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বাসের মালিক, সাংবাদিকসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে আসামিদের সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে আছেন হাবিবুর রহমান ওরফে হৃদয় (২৫)। এজাহারে তাঁকে সাভার পরিবহনের মালিক, ছাত্রলীগ সমর্থক এবং ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামানকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য ও টাইমস অব বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার। কামরুজ্জামান জানান, তিনি ঢাকায় থাকেন এবং সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক) ছিল। গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত না থাকলেও তাঁকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে যা বলা হয়েছে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সোমবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে সাভারের রেডিও কলোনি ইউটার্নে অবস্থান করছিলেন এসআই আব্বাস উদ্দিন। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, রেডিও কলোনি স্টাফ কোয়ার্টারের অদূরে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে ছাত্রলীগের লোকজন পেট্রলবোমাসহ একটি বাসে আগুন দেওয়ার লক্ষ্যে জড়ো হয়েছেন। পুলিশসহ তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান ৬০ থেকে ৭০ জন একটি বাসে পেট্রলবোমা মেরে অগ্নিসংযোগ করছেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামি হাবিবুর রহমান অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁর সাভার পরিবহন বাসটির ইঞ্জিন ও গিয়ার বক্স ছাড়া রাস্তার পাশে পার্কিং করে রেখেছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জং এবং বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মণ্ডলের নির্দেশে ও সহায়তায় হাবিবুর রহমান অন্য আসামিদের জড়ো করে বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করেছেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতেই সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের আকরাইন বাজার এলাকা থেকে সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেছেন।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

ডিআরইউর প্রতিবাদ বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাংবাদিক কামরুজ্জামানকে আসামি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান এক বিবৃতিতে জানান, কামরুজ্জামান খান দীর্ঘদিন ধরে সাভারে বসবাস করেন না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো সাংবাদিককে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।