বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহত: কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ
বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় আইনের সংস্পর্শে আসা কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকা প্রতিনিধি: রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহতের ঘটনায় আইনের সংস্পর্শে আসা ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী আলমগীর হোসেন জানান, রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কিশোরটিকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তাঁরা তার জামিনের আবেদন করবেন।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে। সেখানে প্রাইভেট কারের চাপায় মেহেদী হাসান (২৪) নামের এক নির্মাণশ্রমিক নিহত হন। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
ঘটনার সময় মেহেদী ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে গেলে তিনি গাড়ির চাকায় পিষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের একজনকে আসামি করা হয়।
দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে উপস্থিত লোকজন আটক করে পুলিশে দেন। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রথমে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
পরে গাড়ির চালকের আসনে কিশোর থাকা এবং মামলায় অন্য একজনকে আসামি করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পুলিশ ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। এরপর কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানিয়ে তাকে আইনের সংস্পর্শে আনা হয়। পরে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এখন আদালতের আদেশে ওই কিশোরকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরটি ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বয়স ১৭ বছর। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত বলে পুলিশ জানিয়েছে।





















