০৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, হামলা-পালটা হামলা এবং ইয়েমেনের হুথিদের নতুন হুমকির কারণে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ কমে ৮৮.৮৭ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের সেপ্টেম্বরের চুক্তির দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮২.৪৭ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

এর আগের দিন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চলতি মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছিল।

হুথিদের হুমকিতে নতুন উদ্বেগ

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সোমবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, হুথিদের এই হুমকি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাজারে দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

শান্তি আলোচনার আশা

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পেয়েছে। ১৭ জুনের অন্তর্বর্তী চুক্তিকে কার্যকর রেখে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও দেখা গেছে।

উত্তেজনা এখনো অব্যাহত

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন শহরে নতুন করে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (রেভল্যুশনারি গার্ডস) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।

বিশ্লেষকদের মতামত

আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও বাড়তে পারে। তবে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার খবর আপাতত দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বাস্তব কোনো সমাধান হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত কমার আভাস

এদিকে রয়টার্সের এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রলের মজুত কমে থাকতে পারে। তবে ডিজেলসহ অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির মজুত কিছুটা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের মজুত কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের দামের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

সময় : ০৯:০৭:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, হামলা-পালটা হামলা এবং ইয়েমেনের হুথিদের নতুন হুমকির কারণে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ কমে ৮৮.৮৭ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের সেপ্টেম্বরের চুক্তির দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮২.৪৭ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

এর আগের দিন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চলতি মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছিল।

হুথিদের হুমকিতে নতুন উদ্বেগ

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সোমবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, হুথিদের এই হুমকি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাজারে দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

শান্তি আলোচনার আশা

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পেয়েছে। ১৭ জুনের অন্তর্বর্তী চুক্তিকে কার্যকর রেখে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও দেখা গেছে।

উত্তেজনা এখনো অব্যাহত

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন শহরে নতুন করে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (রেভল্যুশনারি গার্ডস) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।

বিশ্লেষকদের মতামত

আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও বাড়তে পারে। তবে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার খবর আপাতত দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বাস্তব কোনো সমাধান হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত কমার আভাস

এদিকে রয়টার্সের এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রলের মজুত কমে থাকতে পারে। তবে ডিজেলসহ অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির মজুত কিছুটা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের মজুত কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের দামের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।