১২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ফরিদপুরে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি

নিউজ ডেস্ক

অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়।

অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে তদন্ত কমিটি

ফরিদপুরে আল-জারা হাসপাতালে আয়েশা আফরিনের মৃত্যু, সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি

ফরিদপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এ কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আল-জারা হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুলাই প্রকাশিত সংবাদে ফরিদপুরের হাবেলী রাজাপুর এলাকার আল-জারা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল অপারেশনের অভিযোগে আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি উঠে আসে।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে আয়েশা আফরিনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসান তার অস্ত্রোপচার করেন।

অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে ১৭ জুলাই শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সহপাঠী ও স্বজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন।

চার সদস্যের তদন্ত কমিটি

তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফরিদপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন শাহ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজাকে।

কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা মো. আল আমিনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা নূপুর পাল এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সন্দীপন গাইন।

কমিটির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা জানান, রোববার বিকেলে এ বিষয়ে অফিস আদেশ পেয়েছেন। বাদী ও বিবাদীদের অবগত করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে আরও কিছু সময় লাগবে।

স্বজনদের অভিযোগ

নিহত আয়েশা আফরিন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াছিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

আয়েশার মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করেন, সুস্থ অবস্থায় মেয়েকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের ভুলের কারণে মেয়েকে হারাতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

চিকিৎসকের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে ডা. আতিকুল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, রোগীর স্বজনদের অনুরোধে অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, অপারেশনের পর রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে দ্রুত আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ফরিদপুরে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি

সময় : ০৮:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে তদন্ত কমিটি

ফরিদপুরে আল-জারা হাসপাতালে আয়েশা আফরিনের মৃত্যু, সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি

ফরিদপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এ কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আল-জারা হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুলাই প্রকাশিত সংবাদে ফরিদপুরের হাবেলী রাজাপুর এলাকার আল-জারা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল অপারেশনের অভিযোগে আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি উঠে আসে।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে আয়েশা আফরিনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসান তার অস্ত্রোপচার করেন।

অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে ১৭ জুলাই শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সহপাঠী ও স্বজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন।

চার সদস্যের তদন্ত কমিটি

তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফরিদপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন শাহ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজাকে।

কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা মো. আল আমিনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা নূপুর পাল এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সন্দীপন গাইন।

কমিটির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা জানান, রোববার বিকেলে এ বিষয়ে অফিস আদেশ পেয়েছেন। বাদী ও বিবাদীদের অবগত করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে আরও কিছু সময় লাগবে।

স্বজনদের অভিযোগ

নিহত আয়েশা আফরিন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াছিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

আয়েশার মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করেন, সুস্থ অবস্থায় মেয়েকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের ভুলের কারণে মেয়েকে হারাতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

চিকিৎসকের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে ডা. আতিকুল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, রোগীর স্বজনদের অনুরোধে অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, অপারেশনের পর রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে দ্রুত আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।