১২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক

জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনমুখী প্রশাসন গড়ার আহ্বান

প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেছেন, সরকারি কার্যক্রমে সময়, অর্থ ও জনশক্তির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনসেবার মানোন্নয়ন করাই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সরকারি কার্যক্রমের ফলাফল মূল্যায়নের আহ্বান

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর প্রয়োজনীয়তা ও জনকল্যাণে এর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে প্রতিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার ‘রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট’ মূল্যায়ন করার। কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কত কর্মঘণ্টা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জনসেবার মান কতটা উন্নত হয়েছে—এসব বিষয়ও প্রশাসনের হিসাবের অংশ হওয়া উচিত।

পরিবর্তিত বিশ্বে দক্ষ প্রশাসনের প্রয়োজন

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও দক্ষ প্রশাসন, বিচক্ষণ কূটনীতি ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে এর প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব।

এজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের দূরদর্শী, সচেতন এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী নথিতে যথাযথ সিদ্ধান্ত প্রদান করতে হবে।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নিয়ম-শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকা

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রশাসনই সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলার ঐতিহাসিক সুযোগ বর্তমানে রয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের ওপর গুরুত্ব

কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ও সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার সমন্বয় করে বাস্তবায়ন সূচক (ট্র্যাকার) তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলোকে পরিমাপযোগ্য সূচকে রূপান্তর করে নীতি বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা শক্তিশালী করেছে।

বাংলাদেশেও কার্যকর ট্র্যাকার তৈরিতে প্রয়োজন হলে আইটি বিশেষজ্ঞ ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনে স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি এবং নিজেদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন যারা

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

সময় : ০৯:০৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনমুখী প্রশাসন গড়ার আহ্বান

প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেছেন, সরকারি কার্যক্রমে সময়, অর্থ ও জনশক্তির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনসেবার মানোন্নয়ন করাই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সরকারি কার্যক্রমের ফলাফল মূল্যায়নের আহ্বান

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর প্রয়োজনীয়তা ও জনকল্যাণে এর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে প্রতিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার ‘রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট’ মূল্যায়ন করার। কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কত কর্মঘণ্টা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জনসেবার মান কতটা উন্নত হয়েছে—এসব বিষয়ও প্রশাসনের হিসাবের অংশ হওয়া উচিত।

পরিবর্তিত বিশ্বে দক্ষ প্রশাসনের প্রয়োজন

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও দক্ষ প্রশাসন, বিচক্ষণ কূটনীতি ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে এর প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব।

এজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের দূরদর্শী, সচেতন এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী নথিতে যথাযথ সিদ্ধান্ত প্রদান করতে হবে।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নিয়ম-শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকা

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রশাসনই সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলার ঐতিহাসিক সুযোগ বর্তমানে রয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের ওপর গুরুত্ব

কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ও সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার সমন্বয় করে বাস্তবায়ন সূচক (ট্র্যাকার) তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলোকে পরিমাপযোগ্য সূচকে রূপান্তর করে নীতি বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা শক্তিশালী করেছে।

বাংলাদেশেও কার্যকর ট্র্যাকার তৈরিতে প্রয়োজন হলে আইটি বিশেষজ্ঞ ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনে স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি এবং নিজেদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন যারা

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।