০৪:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালি পাঠানোর নামে ৬৫ যুবককে লিবিয়ায় পাচারের অভিযোগ, ব্যাংক হিসাব জব্দ

নিউজ ডেস্ক

ইতালি পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মাদারীপুর প্রতিনিধি:

ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে দেশের বিভিন্ন এলাকার যুবকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার পর লিবিয়ায় নিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুরের কালকিনির খন্দকার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৬৫ বাংলাদেশি যুবক গত ১০ মাস ধরে লিবিয়ায় আটকে আছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ইতালি পাঠানোর জন্য জনপ্রতি ২০ লাখ টাকার বেশি নেওয়া হলেও যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করা হয়। পরে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায় করা হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা হাবিবুর রহমান কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একসময় ডাসার উপজেলার ধজি হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, দুই বছরের মধ্যে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে ওঠার পর তিনি ছয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ভাষ্য, ডাসার উপজেলার বনগ্রামের হাবিবুল, রামনগরের সিফাত সরদার, বরিশালের সাগর এবং কালকিনির ফয়সাল হোসেনসহ অনেক যুবক হাবিবুরের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাদের লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।

হাবিবুলের নানি রোকেয়া বেগম বলেন, “অনেকবার তার বাড়িতে গিয়েছি। কিন্তু কোনো সদুত্তর পাইনি। আমরা এখন নিরুপায়, তার বিচার চাই।”

সিফাতের ভাই রিফাত সরদার অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইকে লিবিয়ায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়া বা মুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

সাগরের মা শাজাহান বেগম বলেন, ২২ দিনের মধ্যে ইতালি পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। এখন ছেলে লিবিয়ায় আটকে থেকে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের স্বজনরা গত ২৬ জুলাই হাবিবুর রহমানের বাড়ি ঘেরাও করে বিচারের দাবি জানান। পরে পুলিশ তাদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। এরপর থেকে প্রতিদিনই অভিযুক্তের বাড়িতে ভিড় করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে হাবিবুর রহমানের ব্যাংক হিসাবের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁর চারটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এসব হিসাবে গত দুই বছরে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে।

মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এসব লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

ধজি হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, হাবিবুর ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলে ছয় মাস আগে পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁর মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান বলেন, ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়ায় তিনি সমস্যায় পড়েছেন। লিবিয়ায় আটকে থাকা যুবকদের মুক্ত করে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তিনি কারও টাকা আত্মসাৎ করবেন না এবং কোথাও পালিয়ে যাবেন না বলেও দাবি করেন।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সাব্বির হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতালি পাঠানোর নামে ৬৫ যুবককে লিবিয়ায় পাচারের অভিযোগ, ব্যাংক হিসাব জব্দ

সময় : ০২:২০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

মাদারীপুর প্রতিনিধি:

ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে দেশের বিভিন্ন এলাকার যুবকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার পর লিবিয়ায় নিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুরের কালকিনির খন্দকার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৬৫ বাংলাদেশি যুবক গত ১০ মাস ধরে লিবিয়ায় আটকে আছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ইতালি পাঠানোর জন্য জনপ্রতি ২০ লাখ টাকার বেশি নেওয়া হলেও যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করা হয়। পরে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায় করা হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা হাবিবুর রহমান কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একসময় ডাসার উপজেলার ধজি হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, দুই বছরের মধ্যে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে ওঠার পর তিনি ছয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ভাষ্য, ডাসার উপজেলার বনগ্রামের হাবিবুল, রামনগরের সিফাত সরদার, বরিশালের সাগর এবং কালকিনির ফয়সাল হোসেনসহ অনেক যুবক হাবিবুরের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাদের লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।

হাবিবুলের নানি রোকেয়া বেগম বলেন, “অনেকবার তার বাড়িতে গিয়েছি। কিন্তু কোনো সদুত্তর পাইনি। আমরা এখন নিরুপায়, তার বিচার চাই।”

সিফাতের ভাই রিফাত সরদার অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইকে লিবিয়ায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়া বা মুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

সাগরের মা শাজাহান বেগম বলেন, ২২ দিনের মধ্যে ইতালি পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। এখন ছেলে লিবিয়ায় আটকে থেকে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের স্বজনরা গত ২৬ জুলাই হাবিবুর রহমানের বাড়ি ঘেরাও করে বিচারের দাবি জানান। পরে পুলিশ তাদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। এরপর থেকে প্রতিদিনই অভিযুক্তের বাড়িতে ভিড় করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে হাবিবুর রহমানের ব্যাংক হিসাবের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁর চারটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এসব হিসাবে গত দুই বছরে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে।

মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এসব লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

ধজি হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, হাবিবুর ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলে ছয় মাস আগে পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁর মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান বলেন, ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়ায় তিনি সমস্যায় পড়েছেন। লিবিয়ায় আটকে থাকা যুবকদের মুক্ত করে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তিনি কারও টাকা আত্মসাৎ করবেন না এবং কোথাও পালিয়ে যাবেন না বলেও দাবি করেন।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সাব্বির হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।