ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি ৩৪৬ রোগী
ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি ৩৪৬ রোগী
ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৪৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু চলতি জুলাই মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই ২২০ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ছিলেন ১২৬ জন। আক্রান্তদের বড় অংশই ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া আশপাশের জেলার রোগীরাও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৫
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে—
- ফেব্রুয়ারি মাসে ১ জন
- জুন মাসে ৩ জন
- জুলাই মাসে ১ জন মারা গেছেন।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। বছরের মোট আক্রান্ত রোগীর বড় অংশ এই সময়েই হাসপাতালে ভর্তি হন।
গত বছরের তুলনায় বেড়েছে আক্রান্ত
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৭৬ জন। ওই সময়ে মৃত্যু হয়েছিল একজনের।
তবে গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২২৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ২৮ জনের।
একদিনে ভর্তি ১০ রোগী
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩৯ জন রোগী।
এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১০ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জন।
নগরের ৬ ওয়ার্ড ‘স্পেশাল জোন’
ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ছয়টি ওয়ার্ডকে ‘স্পেশাল জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব ওয়ার্ড হলো—
- ৬ নম্বর ওয়ার্ড
- ১০ নম্বর ওয়ার্ড
- ১১ নম্বর ওয়ার্ড
- ১২ নম্বর ওয়ার্ড
- ১৩ নম্বর ওয়ার্ড
- ১৪ নম্বর ওয়ার্ড
সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নগরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন ৪ জন। জুন মাসে আক্রান্ত হন ৮ জন এবং ২১ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ জন।
চলতি বছরে নগরে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ জন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
দিনে দুইবার চলছে মশকনিধন কার্যক্রম
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন জানান, গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে স্পেশাল জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব এলাকায় দিনে দুইবার মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফগিংয়ের পাশাপাশি স্প্রে করা হচ্ছে এবং বাসাবাড়িতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
২০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ৩৯ রোগী
রোগীর চাপ বাড়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২ জুলাই থেকে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে দেখা যায়, ২০ শয্যার ওই ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। জায়গার সংকটে কয়েকজন রোগীকে মেঝেতেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুলাই থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২৪২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার রোগী ১০৩ জন।
সিটি করপোরেশন এলাকার রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫৬ শতাংশ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও বাড়ছে রোগী
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি জেলার ১২টি উপজেলায় ২২ জুলাই পর্যন্ত ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে ভর্তি আছেন ৫ জন রোগী।
সিভিল সার্জন ফয়সল আহমেদ জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন চিকিৎসকদের ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
























