১২ বছর স্কুলে অনুপস্থিত, তবুও নিজেকে নিয়মিত শিক্ষক দাবি
রাজশাহীর বাগমারার অভ্যাগতপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি নিয়ে অভিযোগের তদন্ত করছে প্রশাসন।
রাজশাহী প্রতিনিধি: স্কুল এমপিওভুক্ত না হওয়ায় স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন নীরেন্দ্রনাথ প্রামাণিক। এক যুগ ধরে হাজিরা খাতায় তার কোনো স্বাক্ষর নেই। তবে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে না গিয়েও নিজেকে নিয়মিত শিক্ষক দাবি করে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। গত ৪ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগটি করেন নীরেন্দ্রনাথ। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের অভ্যাগতপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
২০১৪ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়েন নীরেন্দ্রনাথ
জানা গেছে, ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর অভ্যাগতপাড়া গ্রামের মৃত যতিনন্দ্রনাথ প্রামাণিকের ছেলে নীরেন্দ্রনাথ প্রামাণিক ওই বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার পদে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
তবে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২০১৪ সালে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। এ সময়ে হাজিরা খাতায়ও তার কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২০২২ সালে বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। তবে এরপরও নীরেন্দ্রনাথ বিদ্যালয়ে যোগ দেননি বলে জানা গেছে।
নিজেকে নিয়মিত শিক্ষক দাবি করে অভিযোগ
দীর্ঘ ১২ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার পরও নিজেকে নিয়মিত শিক্ষক দাবি করেছেন নীরেন্দ্রনাথ প্রামাণিক। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইয়ানুছ আলী কোনো কারণ ছাড়াই তাকে চাকরিচ্যুত করেছেন।
তবে নীরেন্দ্রনাথের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়ানুছ আলী। তার বক্তব্য, নীরেন্দ্রনাথকে কেউ চাকরিচ্যুত করেননি; বরং তিনি ১২ বছর আগে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন।
বর্তমান প্রধান শিক্ষককে চেনেন না অভিযোগকারী
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়ানুছ আলী বলেন, নীরেন্দ্রনাথ যখন চাকরি ছেড়ে দেন, তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন গোলাম রহমান। দীর্ঘ এক যুগ ধরে বিদ্যালয়ে না আসায় নীরেন্দ্রনাথ বর্তমান প্রধান শিক্ষককেও চেনেন না। এ কারণে অভিযোগপত্রে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার ড. মুহাম্মদ আব্দুল মুমীত।
তদন্ত কমিটির মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।




















