০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জান্নাতবাসীরা কি ঘুমাবে? কুরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে

ধর্ম ডেস্ক

কুরআন ও হাদিসের আলোকে জান্নাতবাসীদের ঘুম সম্পর্কে ইসলামের ব্যাখ্যা।

জান্নাতবাসীরা কি ঘুমাবে? ইসলাম যা বলে

ইসলাম ডেস্ক

জান্নাত— এমন এক চিরস্থায়ী আবাস, যা মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর ঈমানদার ও নেককার বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। সেখানে নেই মৃত্যু, রোগ-ব্যাধি, বার্ধক্য কিংবা কোনো ধরনের দুঃখ-কষ্ট। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— জান্নাতবাসীরা কি দুনিয়ার মানুষের মতো ঘুমাবে?

ঘুম কেন মানুষের প্রয়োজন?

দুনিয়ার জীবনে ঘুম আল্লাহ তাআলার একটি বড় নেয়ামত। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সেই ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরকে পুনরায় কর্মক্ষম করতে ঘুমের প্রয়োজন হয়।

মহান আল্লাহ বলেন,

وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا
“আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রামের মাধ্যম।”
(সুরা আন-নাবা: ৯)

আরও ইরশাদ হয়েছে,

وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا
“আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ, ঘুমকে করেছেন বিশ্রামের মাধ্যম এবং দিনকে করেছেন কর্মচঞ্চলতার সময়।”
(সুরা আল-ফুরকান: ৪৭)

এসব আয়াত থেকে বোঝা যায়, ঘুম মানুষের পার্থিব জীবনের স্বাভাবিক প্রয়োজন।

জান্নাতে কি ঘুম থাকবে?

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,

النَّوْمُ أَخُو الْمَوْتِ، وَأَهْلُ الْجَنَّةِ لَا يَنَامُونَ

অর্থ: “ঘুম হলো মৃত্যুর ভাই। আর জান্নাতবাসীরা ঘুমাবে না।”
(বায়হাকি; সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সহীহাহ: ১০৮৭)

এই হাদিস অনুযায়ী, জান্নাতবাসীদের ঘুমের প্রয়োজন হবে না।

ঘুমকে কেন ‘মৃত্যুর ভাই’ বলা হয়েছে?

ঘুমের সময় মানুষের অনুভূতি ও কর্মক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে। এ কারণেই ইসলামী পরিভাষায় ঘুমকে মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا

অর্থ: “আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মারা যায়নি তাদের নিদ্রার সময়ও। এরপর যাদের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের প্রাণ রেখে দেন এবং অন্যদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ফিরিয়ে দেন।”
(সুরা আয-যুমার: ৪২)

এই আয়াত ঘুম ও মৃত্যুর মধ্যে বিশেষ সাদৃশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করে।

জান্নাতে থাকবে না কোনো ক্লান্তি

দুনিয়ায় মানুষ ক্লান্ত হয় বলেই বিশ্রাম ও ঘুমের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জান্নাতে কোনো ক্লান্তি, অবসাদ বা কষ্ট থাকবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ

অর্থ: “সেখানে তাদের কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং সেখান থেকে তারা কখনো বহিষ্কৃতও হবে না।”
(সুরা আল-হিজর: ৪৮)

আরও ইরশাদ হয়েছে,

لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌ

অর্থ: “এখানে আমাদের কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং কোনো অবসাদও আমাদের গ্রাস করবে না।”
(সুরা ফাতির: ৩৫)

উপসংহার

কুরআনের আয়াত ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস থেকে বোঝা যায়, জান্নাতবাসীদের ঘুমানোর প্রয়োজন হবে না। কারণ জান্নাতে থাকবে না কোনো ক্লান্তি, অবসাদ বা মৃত্যুর আশঙ্কা। সেখানে মানুষ চিরস্থায়ী শান্তি, আনন্দ ও পরিপূর্ণ প্রশান্তির মধ্যে অবস্থান করবে। তাই ঘুম, যা দুনিয়ার জীবনে বিশ্রামের মাধ্যম, জান্নাতে তার আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না।

জান্নাতবাসীরা কি ঘুমাবে? কুরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে

সময় : ০৮:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

জান্নাতবাসীরা কি ঘুমাবে? ইসলাম যা বলে

ইসলাম ডেস্ক

জান্নাত— এমন এক চিরস্থায়ী আবাস, যা মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর ঈমানদার ও নেককার বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। সেখানে নেই মৃত্যু, রোগ-ব্যাধি, বার্ধক্য কিংবা কোনো ধরনের দুঃখ-কষ্ট। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— জান্নাতবাসীরা কি দুনিয়ার মানুষের মতো ঘুমাবে?

ঘুম কেন মানুষের প্রয়োজন?

দুনিয়ার জীবনে ঘুম আল্লাহ তাআলার একটি বড় নেয়ামত। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সেই ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরকে পুনরায় কর্মক্ষম করতে ঘুমের প্রয়োজন হয়।

মহান আল্লাহ বলেন,

وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا
“আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রামের মাধ্যম।”
(সুরা আন-নাবা: ৯)

আরও ইরশাদ হয়েছে,

وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا
“আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ, ঘুমকে করেছেন বিশ্রামের মাধ্যম এবং দিনকে করেছেন কর্মচঞ্চলতার সময়।”
(সুরা আল-ফুরকান: ৪৭)

এসব আয়াত থেকে বোঝা যায়, ঘুম মানুষের পার্থিব জীবনের স্বাভাবিক প্রয়োজন।

জান্নাতে কি ঘুম থাকবে?

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,

النَّوْمُ أَخُو الْمَوْتِ، وَأَهْلُ الْجَنَّةِ لَا يَنَامُونَ

অর্থ: “ঘুম হলো মৃত্যুর ভাই। আর জান্নাতবাসীরা ঘুমাবে না।”
(বায়হাকি; সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সহীহাহ: ১০৮৭)

এই হাদিস অনুযায়ী, জান্নাতবাসীদের ঘুমের প্রয়োজন হবে না।

ঘুমকে কেন ‘মৃত্যুর ভাই’ বলা হয়েছে?

ঘুমের সময় মানুষের অনুভূতি ও কর্মক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে। এ কারণেই ইসলামী পরিভাষায় ঘুমকে মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا

অর্থ: “আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মারা যায়নি তাদের নিদ্রার সময়ও। এরপর যাদের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের প্রাণ রেখে দেন এবং অন্যদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ফিরিয়ে দেন।”
(সুরা আয-যুমার: ৪২)

এই আয়াত ঘুম ও মৃত্যুর মধ্যে বিশেষ সাদৃশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করে।

জান্নাতে থাকবে না কোনো ক্লান্তি

দুনিয়ায় মানুষ ক্লান্ত হয় বলেই বিশ্রাম ও ঘুমের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জান্নাতে কোনো ক্লান্তি, অবসাদ বা কষ্ট থাকবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ

অর্থ: “সেখানে তাদের কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং সেখান থেকে তারা কখনো বহিষ্কৃতও হবে না।”
(সুরা আল-হিজর: ৪৮)

আরও ইরশাদ হয়েছে,

لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌ

অর্থ: “এখানে আমাদের কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং কোনো অবসাদও আমাদের গ্রাস করবে না।”
(সুরা ফাতির: ৩৫)

উপসংহার

কুরআনের আয়াত ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস থেকে বোঝা যায়, জান্নাতবাসীদের ঘুমানোর প্রয়োজন হবে না। কারণ জান্নাতে থাকবে না কোনো ক্লান্তি, অবসাদ বা মৃত্যুর আশঙ্কা। সেখানে মানুষ চিরস্থায়ী শান্তি, আনন্দ ও পরিপূর্ণ প্রশান্তির মধ্যে অবস্থান করবে। তাই ঘুম, যা দুনিয়ার জীবনে বিশ্রামের মাধ্যম, জান্নাতে তার আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না।