০৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে কম দামে ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া

নিউজ ডেস্ক

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশকে কম দামে ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহ জানায় রাশিয়ার প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশকে কম দামে ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া, বাড়াতে চায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি কম দামে ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটি জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ ডলার কম দামে সার দিতে প্রস্তুত তারা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে রাশিয়ার একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বৈঠকে ঢাকায় রাশিয়ান ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। আলোচনায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সহযোগিতা, সার সরবরাহ এবং সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রোডিনটর্গ

রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করছে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ ডলার কম দামে সার সরবরাহ করা সম্ভব। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের সার আমদানি ব্যয় কমবে এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যমান আমদানি মূল্যের সঙ্গে তুলনামূলক মূল্যতালিকা উল্লেখ করা হয়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গম ও এমওপি সার সরবরাহে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং রাশিয়ার প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

রাশিয়ার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে সরকার কাজ করবে।

বৈঠকে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশকে কম দামে ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া

সময় : ০৯:১৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশকে কম দামে ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া, বাড়াতে চায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি কম দামে ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটি জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ ডলার কম দামে সার দিতে প্রস্তুত তারা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে রাশিয়ার একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বৈঠকে ঢাকায় রাশিয়ান ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। আলোচনায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সহযোগিতা, সার সরবরাহ এবং সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রোডিনটর্গ

রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করছে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ ডলার কম দামে সার সরবরাহ করা সম্ভব। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের সার আমদানি ব্যয় কমবে এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যমান আমদানি মূল্যের সঙ্গে তুলনামূলক মূল্যতালিকা উল্লেখ করা হয়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গম ও এমওপি সার সরবরাহে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং রাশিয়ার প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

রাশিয়ার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে সরকার কাজ করবে।

বৈঠকে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।