সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৬, আহত বহু
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ মোট ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জনের বেশি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে ঢাকা-সিলেট ও বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯
শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহণের একটি বাস এবং সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদিন জানান, সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহণের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসটির সাত যাত্রী নিহত হন।
পরে উদ্ধারকারীরা গুরুতর আহত তিন বছরের এক শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ জনে। নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহণের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। নিহতদের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
বগুড়ায় বাসচাপায় প্রাণ গেল ৭ দিনমজুরের
অন্যদিকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের চাপা দেয়।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান জানান, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহণের একটি বাস গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এরপর সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুরদের ওপর উঠে যায়।
এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়ায়।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল ইসলাম ও নূর আলম, বগুড়া সদরের ফাঁপোড় এলাকার বেলাল হোসেন এবং জয়পুরহাটের তাজমুল।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















