১০:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর বাজারে কমেছে মাছ-মুরগির দাম, বেড়েছে ব্রাউন ডিম

নিউজ ডেস্ক

রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে কয়েক ধরনের মাছ ও ব্রয়লার মুরগির দাম।

রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক ধরনের মাছ ও মুরগির দাম কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে তেলাপিয়ার দাম—কেজিতে ৮০ টাকা। এ ছাড়া পাঙাশ, মাঝারি রুই ও পাবদার দামও কমেছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে ১৫ টাকা। তবে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাছ ও মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও ডিমের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ব্রাউন ডিমের দাম ডজনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজার ঘুরে এ দামের চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঙাশের দাম কমেছে ৩০ টাকা।

তেলাপিয়ার দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ তা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে তেলাপিয়ার দাম কমেছে ৮০ টাকা।

মাঝারি আকারের রুই মাছও গত সপ্তাহের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মাঝারি রুইয়ের দাম ছিল ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। আজ একই মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় কেজিতে ৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ১১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে।

পাবদার দামও কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ৩০০ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়া আজকের বাজারে কই মাছ ২০০ টাকা এবং সিলভার মাছ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ১৭৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে ১৫ টাকা।

হাইব্রিড সোনালি মুরগি আজ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ মুরগির দাম ছিল ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি।

অন্যদিকে গরুর মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত সপ্তাহের মতো আজও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ডিমের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গত সপ্তাহে ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন এবং ব্রাউন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হয়েছিল। আজ ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এটি ১৪০ টাকা ডজনেই বিক্রি হচ্ছে।

তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন হয়েছে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ব্রাউন ডিমের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দামে ৫ টাকা করে বেড়েছে।

এ ছাড়া আজকের বাজারে প্রতি ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে।

মাছের বাজারে কথা হয় ক্রেতা জাহিদ হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, কম-বেশি মাছ প্রতি সপ্তাহেই কেনা হয়। আজ মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে। তবে মাছের আকার কিছুটা ছোট মনে হয়েছে। তার মতে, ডিমের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের জন্য এটি কেনা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

মাছ বিক্রেতা রুবেল বলেন, মাছের দাম প্রতিদিন একই থাকে না। বাজারে মাছের সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কিছুটা কমে, আবার সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়। গত সপ্তাহের তুলনায় পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই ও পাবদার দাম কিছুটা কমেছে। কম দামে মাছ কিনতে পারলে ক্রেতাদের কাছেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

মুরগি বিক্রেতা শরিফ বলেন, গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি ছিল, এখন ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড সোনালিও আগের দামেই রয়েছে। শুক্রবারে চাহিদা বেশি থাকে। কম দামে মুরগি পাওয়া যাচ্ছে বলেই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারে কমেছে মাছ-মুরগির দাম, বেড়েছে ব্রাউন ডিম

সময় : ১১:৫১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক ধরনের মাছ ও মুরগির দাম কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে তেলাপিয়ার দাম—কেজিতে ৮০ টাকা। এ ছাড়া পাঙাশ, মাঝারি রুই ও পাবদার দামও কমেছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে ১৫ টাকা। তবে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাছ ও মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও ডিমের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ব্রাউন ডিমের দাম ডজনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজার ঘুরে এ দামের চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঙাশের দাম কমেছে ৩০ টাকা।

তেলাপিয়ার দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ তা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে তেলাপিয়ার দাম কমেছে ৮০ টাকা।

মাঝারি আকারের রুই মাছও গত সপ্তাহের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মাঝারি রুইয়ের দাম ছিল ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। আজ একই মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় কেজিতে ৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ১১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে।

পাবদার দামও কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ৩০০ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়া আজকের বাজারে কই মাছ ২০০ টাকা এবং সিলভার মাছ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ১৭৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে ১৫ টাকা।

হাইব্রিড সোনালি মুরগি আজ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ মুরগির দাম ছিল ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি।

অন্যদিকে গরুর মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত সপ্তাহের মতো আজও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ডিমের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গত সপ্তাহে ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন এবং ব্রাউন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হয়েছিল। আজ ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এটি ১৪০ টাকা ডজনেই বিক্রি হচ্ছে।

তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন হয়েছে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ব্রাউন ডিমের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দামে ৫ টাকা করে বেড়েছে।

এ ছাড়া আজকের বাজারে প্রতি ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে।

মাছের বাজারে কথা হয় ক্রেতা জাহিদ হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, কম-বেশি মাছ প্রতি সপ্তাহেই কেনা হয়। আজ মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে। তবে মাছের আকার কিছুটা ছোট মনে হয়েছে। তার মতে, ডিমের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের জন্য এটি কেনা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

মাছ বিক্রেতা রুবেল বলেন, মাছের দাম প্রতিদিন একই থাকে না। বাজারে মাছের সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কিছুটা কমে, আবার সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়। গত সপ্তাহের তুলনায় পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই ও পাবদার দাম কিছুটা কমেছে। কম দামে মাছ কিনতে পারলে ক্রেতাদের কাছেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

মুরগি বিক্রেতা শরিফ বলেন, গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি ছিল, এখন ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড সোনালিও আগের দামেই রয়েছে। শুক্রবারে চাহিদা বেশি থাকে। কম দামে মুরগি পাওয়া যাচ্ছে বলেই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।