জামালপুরে রডবোঝাই ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, বিচারক নিহত
জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় রডবোঝাই ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক বিচারক নিহত হয়েছেন।
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রডবোঝাই ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এ কে এম সামিউল হক (২৭) নামে এক বিচারক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত এ কে এম সামিউল হক জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী জজ ছিলেন। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকার সাবেক সচিব এ কে এম ফজলুল হকের ছেলে।
দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারের চালক মো. ইদ্রিস আলী (৪৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার দানেশ হাওলাদারের ছেলে। তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যেভাবে দুর্ঘটনা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিচারক সামিউল হক রোববার গভীর রাতে ঢাকার লালমাটিয়ার বাসা থেকে একটি প্রাইভেট কারে করে জামালপুরে যাচ্ছিলেন। ভোরে প্রাইভেট কারটি জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকায় পৌঁছালে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রডবোঝাই ট্রাকের পেছনে গিয়ে ধাক্কা দেয়।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, ট্রাকটি বিকল হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ভোরে বিচারককে বহনকারী প্রাইভেট কারটি ট্রাকটির পেছনে গিয়ে ধাক্কা দেয়।
তিনি বলেন, ট্রাকে থাকা রড প্রাইভেট কারের ভেতরে ঢুকে বিচারকের শরীরে বিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
চালকও গুরুতর আহত
দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারের চালক ইদ্রিস আলী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ওসি নাজমুস সাকিব জানান, আহত চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি তিনি প্রথমে খেয়াল করেননি। পরে ট্রাকটি দেখতে পেলেও ততক্ষণে প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে গাড়িটি ট্রাকের পেছনে গিয়ে ধাক্কা দেয়।
ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। নিহত বিচারকের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিচারক এ কে এম সামিউল হকের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


















