০৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবাসিক হোটেলে পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ, স্ত্রী রক্তাক্ত

নিউজ ডেস্ক

মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজারের আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে। একই কক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা ১১টার দিকে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজারের রিলাক্স জোন নামের একটি আবাসিক হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আমিনুল ইসলাম (৩২)। তিনি মিরসরাইয়ের মায়ানি ইউনিয়নের পশ্চিম মায়ানি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি রাঙামাটি জেলা পুলিশ লাইনসে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আমিনুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের (২৭) সঙ্গে তাঁদের দেড় বছর বয়সী একটি মেয়েসন্তান রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্তানকে নিয়ে তাহমিনা আক্তার মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে তাঁর বাবার বাড়িতে ছিলেন। কর্মস্থল থেকে ছুটিতে এসে কয়েক দিন আগে সেখানে ওঠেন আমিনুল। গতকাল সকালে বাচ্চার জন্মনিবন্ধন করার কথা বলে সেখান থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বের হন তিনি। পরে বেলা দুইটার দিকে আবাসিক হোটেলটিতে ওঠেন।

আজ সকালে ডাকাডাকির পরও কক্ষের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। এরপর পুলিশ কক্ষের ভেতরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুলের লাশ ঝুলতে দেখে। পাশে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। শিশুসন্তানটিও সেখানে ছিল।

পুলিশ তাহমিনা আক্তারকে দ্রুত উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহের নিগার বলেন, তাহমিনা আক্তারের মুখ, ঠোঁট ও জিব ফোলা ছিল। মুখও বাঁকানো ছিল। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। গলায় কোনো কিছু দিয়ে শক্ত করে পেঁচিয়ে রাখার দাগও দেখা গেছে।

মেহের নিগার বলেন, জ্ঞান থাকলেও ওই নারী কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের বড় ভাই মো. আবুল হাসান জানান, তিনি চট্টগ্রাম শহরের একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করেন। হোটেলের ভেতরে ভাইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি শহর থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

আবুল হাসান বলেন, দুই বছর আগে আমিনুলের বিয়ে হয়। এরপর থেকে স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এসব নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক সালিস-দরবার হলেও সংসারে সুখ আসেনি।

মিরসরাই থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমিনুল ইসলামের লাশ থানা হেফাজতে আছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহ থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

আবাসিক হোটেলে পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ, স্ত্রী রক্তাক্ত

সময় : ০৪:৩৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে। একই কক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা ১১টার দিকে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজারের রিলাক্স জোন নামের একটি আবাসিক হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আমিনুল ইসলাম (৩২)। তিনি মিরসরাইয়ের মায়ানি ইউনিয়নের পশ্চিম মায়ানি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি রাঙামাটি জেলা পুলিশ লাইনসে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আমিনুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের (২৭) সঙ্গে তাঁদের দেড় বছর বয়সী একটি মেয়েসন্তান রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্তানকে নিয়ে তাহমিনা আক্তার মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে তাঁর বাবার বাড়িতে ছিলেন। কর্মস্থল থেকে ছুটিতে এসে কয়েক দিন আগে সেখানে ওঠেন আমিনুল। গতকাল সকালে বাচ্চার জন্মনিবন্ধন করার কথা বলে সেখান থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বের হন তিনি। পরে বেলা দুইটার দিকে আবাসিক হোটেলটিতে ওঠেন।

আজ সকালে ডাকাডাকির পরও কক্ষের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। এরপর পুলিশ কক্ষের ভেতরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুলের লাশ ঝুলতে দেখে। পাশে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। শিশুসন্তানটিও সেখানে ছিল।

পুলিশ তাহমিনা আক্তারকে দ্রুত উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহের নিগার বলেন, তাহমিনা আক্তারের মুখ, ঠোঁট ও জিব ফোলা ছিল। মুখও বাঁকানো ছিল। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। গলায় কোনো কিছু দিয়ে শক্ত করে পেঁচিয়ে রাখার দাগও দেখা গেছে।

মেহের নিগার বলেন, জ্ঞান থাকলেও ওই নারী কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের বড় ভাই মো. আবুল হাসান জানান, তিনি চট্টগ্রাম শহরের একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করেন। হোটেলের ভেতরে ভাইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি শহর থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

আবুল হাসান বলেন, দুই বছর আগে আমিনুলের বিয়ে হয়। এরপর থেকে স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এসব নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক সালিস-দরবার হলেও সংসারে সুখ আসেনি।

মিরসরাই থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমিনুল ইসলামের লাশ থানা হেফাজতে আছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহ থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।