চট্টগ্রাম বোর্ডে ৮ বিদ্যালয়ে এসএসসিতে পাসের হার শূন্য
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব বিদ্যালয় থেকে মোট ৮৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। গত বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার শূন্য ছিল এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল একটি।
এর মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে টানা দুই বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য। চলতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল তিনজন। তাদের মধ্যে মানবিক বিভাগে দুজন ও বিজ্ঞান বিভাগে একজন ছিল। কেউই পাস করতে পারেনি।
গত বছরও বিদ্যালয়টি থেকে মানবিক বিভাগে দুজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তারাও পাস করতে পারেনি। ফলে টানা দুই বছর বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফলে পাসের হার শূন্য রয়েছে।
এসএসসির ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত নারায়ণহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে পাস করেছে ১৭ জন।
শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যা
শিক্ষার্থী কম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে খারাপ ফলাফলের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টির ফলাফল নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এখনো মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও)ভুক্ত হয়নি।
চট্টগ্রাম বোর্ডে শূন্য পাসের ৮ বিদ্যালয়
নারায়ণহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আরও সাতটি বিদ্যালয়ে এ বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
পাসের হার শূন্য থাকা বিদ্যালয়গুলো হলো—আন্দারমানিক (মাইজছড়ি) জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়, মহালছড়ি উচ্চবিদ্যালয়, উরিরচর জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়, ভাইবোনছড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, জারুলছড়ি হেডম্যানপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, তারাবানিয়া উচ্চবিদ্যালয় এবং শিজক দাজার বাজার জুনিয়র স্কুল।
এসব বিদ্যালয় থেকে মোট ৮১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি।
পাসের হার শূন্য থাকা বিদ্যালয়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়। এ দুই জেলায় তিনটি করে বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী এসএসসিতে পাস করতে পারেনি।
প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা
ফলাফল ও বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার উরিরচর জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাসানুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া রাঙামাটি জেলার আন্দারমানিক (মাইজছড়ি) জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভবতোষ চাকমার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
ফলাফল পর্যালোচনা করবে শিক্ষা বোর্ড
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক তাজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল কেন খারাপ হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক পরিস্থিতিও দেখা হবে।
তিনি বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিদ্যালয়গুলোর ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছর আটটি বিদ্যালয়ের পাসের হার শূন্য হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থী সংখ্যা ও অন্যান্য সমস্যাগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষা বোর্ডের পর্যালোচনার পর এসব বিদ্যালয়ের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




















