১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, আটক ১: পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ

নিউজ ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে শিশু হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করতে গেলে উত্তপ্ত জনতার মুখোমুখি হয় পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ছয় বছরের এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির এক তরুণ স্বজনকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুটি একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়ত। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ওই দিন তাদের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুরে অভিযুক্ত তরুণ শিশুটিকে পানি এনে দিতে বলে এবং নিজ ঘরে নিয়ে যায়। পরে শিশুটির মা তাকে খুঁজতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি পাশের একটি কক্ষে গিয়ে দুই হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির হোসেন জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং তার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে বেধড়ক পিটুনি দিয়ে একটি বাড়িতে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেললে তিন-চার হাজার উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে নিজেদের হাতে শাস্তি দেওয়ার জন্য ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে স্থানীয়দের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ঘটে। পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর অভিযুক্তকে হেলমেট পরিয়ে আশুগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ জানান, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে সরিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আশুগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, আটক ১: পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ

সময় : ১১:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ছয় বছরের এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির এক তরুণ স্বজনকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুটি একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়ত। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ওই দিন তাদের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুরে অভিযুক্ত তরুণ শিশুটিকে পানি এনে দিতে বলে এবং নিজ ঘরে নিয়ে যায়। পরে শিশুটির মা তাকে খুঁজতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি পাশের একটি কক্ষে গিয়ে দুই হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির হোসেন জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং তার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে বেধড়ক পিটুনি দিয়ে একটি বাড়িতে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেললে তিন-চার হাজার উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে নিজেদের হাতে শাস্তি দেওয়ার জন্য ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে স্থানীয়দের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ঘটে। পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর অভিযুক্তকে হেলমেট পরিয়ে আশুগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ জানান, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে সরিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।