০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলেকে চিকিৎসক, মেয়েকে নার্স বানিয়ে ৫৪ বছরে এসএসসি পাস বাবা

নিউজ ডেস্ক

ছেলেকে চিকিৎসক ও মেয়েকে নার্স বানানোর পর ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করেছেন আলী আকবর।

নাটোর প্রতিনিধি: ছেলেকে চিকিৎসক ও মেয়েকে নার্স বানানোর পর ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার আলী আকবর। রাজশাহীর নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি উচ্চবিদ্যালয়ের কারিগরি শাখা থেকে বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স ট্রেডে পরীক্ষা দিয়ে তিনি জিপিএ ৪.৩৫ পেয়েছেন।

পেশায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী আলী আকবরের বাড়ি বাগাতিপাড়া পৌর সদরে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ১৯৮৩ সালে অর্থনৈতিক কারণে তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে বাবাকে সহযোগিতা করেন এবং ১৯৯০ সালে বিয়ে করেন।

এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা আলী আকবর পরে রাজশাহীতে চলে যান। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৫ সালে তাঁর মেয়ে নার্সিং পাস করেন। ছেলে ইসমাইল হোসেন ২০১৯ সালে এমবিবিএস পাস করে ৪২তম বিসিএসে চিকিৎসক হিসেবে চাকরি করছেন।

সন্তানদের পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর নিজের অসম্পূর্ণ পড়াশোনা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন আলী আকবর। স্ত্রী ও সন্তানরা তাঁকে উৎসাহ দেন এবং স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন।

আলী আকবর বলেন, ‘পড়ালেখার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। ইচ্ছাশক্তি, মনোবল ও অধ্যবসায় সাফল্য এনে দিতে পারে।’

ছেলে চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন জানান, বাবার পড়াশোনা শুরুর সিদ্ধান্তে পরিবারের সবাই তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন। বাবা এসএসসি পাস করায় তারা ভীষণ খুশি এবং তিনি আরও পড়াশোনা চালিয়ে যাক—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

ছেলেকে চিকিৎসক, মেয়েকে নার্স বানিয়ে ৫৪ বছরে এসএসসি পাস বাবা

সময় : ০৫:০৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নাটোর প্রতিনিধি: ছেলেকে চিকিৎসক ও মেয়েকে নার্স বানানোর পর ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার আলী আকবর। রাজশাহীর নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি উচ্চবিদ্যালয়ের কারিগরি শাখা থেকে বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স ট্রেডে পরীক্ষা দিয়ে তিনি জিপিএ ৪.৩৫ পেয়েছেন।

পেশায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী আলী আকবরের বাড়ি বাগাতিপাড়া পৌর সদরে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ১৯৮৩ সালে অর্থনৈতিক কারণে তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে বাবাকে সহযোগিতা করেন এবং ১৯৯০ সালে বিয়ে করেন।

এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা আলী আকবর পরে রাজশাহীতে চলে যান। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৫ সালে তাঁর মেয়ে নার্সিং পাস করেন। ছেলে ইসমাইল হোসেন ২০১৯ সালে এমবিবিএস পাস করে ৪২তম বিসিএসে চিকিৎসক হিসেবে চাকরি করছেন।

সন্তানদের পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর নিজের অসম্পূর্ণ পড়াশোনা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন আলী আকবর। স্ত্রী ও সন্তানরা তাঁকে উৎসাহ দেন এবং স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন।

আলী আকবর বলেন, ‘পড়ালেখার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। ইচ্ছাশক্তি, মনোবল ও অধ্যবসায় সাফল্য এনে দিতে পারে।’

ছেলে চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন জানান, বাবার পড়াশোনা শুরুর সিদ্ধান্তে পরিবারের সবাই তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন। বাবা এসএসসি পাস করায় তারা ভীষণ খুশি এবং তিনি আরও পড়াশোনা চালিয়ে যাক—এটাই তাদের প্রত্যাশা।