০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারাদিন ক্লান্তি ও ঝিমুনি? এক চামচ কালো তিল হতে পারে উপকারী

স্বাস্থ্য ডেস্ক

পুষ্টিবিদ পুজা মালহোত্রার মতে, পরিমিত কালো তিল খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে।

সারাদিন ক্লান্তি, অবসাদ আর ঝিমুনি ভাব? কাজের সময় সতেজ থাকতে বারবার কফি খেতে হচ্ছে? ভারতীয় পুষ্টিবিদ পুজা মালহোত্রার মতে, এক চামচ কালো তিল খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে এটি কীভাবে যুক্ত করা যায় এবং কারা সতর্ক থাকবেন, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আমরা অনেকেই দিনের শুরু করি কফি দিয়ে। সাময়িকভাবে এটি ঘুম ঘুম ভাব দূর করে সতেজ অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে। তবে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে ক্যাফেইন সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারে না।

শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদনের জন্য আয়রন, কপার, ম্যাগনেশিয়াম ও বি ভিটামিনের মতো পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। কালো তিলে আয়রনের পাশাপাশি কপারও রয়েছে। আয়রনকে শরীরে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে কপারের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি১, বি৩, বি৬ ও ম্যাগনেশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় কী বলা হয়েছে?

কিছু গবেষণায় কালো তিলের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। একটি গবেষণায় কালো তিল খাওয়ার সঙ্গে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কিছু সূচক কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আরেকটি গবেষণায় নিয়মিত কালো তিলের গুঁড়া খাওয়ার পর রক্তচাপ ও রক্তনালির কার্যকারিতায় উন্নতি দেখা গেছে।

কালো তিলে থাকা সেসামিন ও সেসামোলিনের মতো উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করতে পারে।

কীভাবে খাবেন?

পুষ্টিবিদ পুজা মালহোত্রার মতে, কালো তিল হালকা ভেজে খাওয়া ভালো। কারণ কাঁচা তিলের কিছু উপাদান শরীরে খনিজ শোষণে বাধা দিতে পারে। তাই অল্প আঁচে ২-৩ মিনিট ভেজে এরপর গুঁড়া করে খাওয়া যেতে পারে।

পুজা মালহোত্রা প্রতিদিন এক টেবিল চামচ বা প্রায় ১০-১২ গ্রাম কালো তিল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সকালের রুটিনে কালো তিল যোগ করার ৩ সহজ উপায়

১. সকালের উষ্ণ পানীয়

এক চা-চামচ তাজা ভাজা ও গুঁড়া করা কালো তিল উষ্ণ বাদামের দুধ বা সাধারণ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন। এর সঙ্গে এক চিমটি জায়ফল ও কাঁচা মধু যোগ করা যেতে পারে।

২. এনার্জি স্মুদি টপার

প্রতিদিনের গ্রিন স্মুদি, দইয়ের বাটি বা সকালের পোরিজের ওপর ভাজা কালো তিল ছিটিয়ে খেতে পারেন। এতে খাবারে বাদামের মতো স্বাদ ও মচমচে টেক্সচার যোগ হবে।

৩. ঐতিহ্যবাহী এনার্জি লাড্ডু

ভাজা কালো তিলের সঙ্গে থেঁতো করা খেজুর ও অল্প A2 ঘি মিশিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করা যেতে পারে। দুপুরের ক্লান্তির সময় এটি চিনি ছাড়া এনার্জি বল হিসেবে খাওয়া যায়।

কারা সতর্ক থাকবেন?

কালো তিল বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সাধারণত নিরাপদ হলেও এতে ক্যালরি তুলনামূলক বেশি এবং প্রাকৃতিক অক্সালেট রয়েছে। যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস রয়েছে বা তিল/বীজে তীব্র অ্যালার্জি আছে, তারা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় কালো তিল যুক্ত করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: এনডিটিভি

সারাদিন ক্লান্তি ও ঝিমুনি? এক চামচ কালো তিল হতে পারে উপকারী

সময় : ০১:১৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারাদিন ক্লান্তি, অবসাদ আর ঝিমুনি ভাব? কাজের সময় সতেজ থাকতে বারবার কফি খেতে হচ্ছে? ভারতীয় পুষ্টিবিদ পুজা মালহোত্রার মতে, এক চামচ কালো তিল খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে এটি কীভাবে যুক্ত করা যায় এবং কারা সতর্ক থাকবেন, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আমরা অনেকেই দিনের শুরু করি কফি দিয়ে। সাময়িকভাবে এটি ঘুম ঘুম ভাব দূর করে সতেজ অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে। তবে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে ক্যাফেইন সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারে না।

শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদনের জন্য আয়রন, কপার, ম্যাগনেশিয়াম ও বি ভিটামিনের মতো পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। কালো তিলে আয়রনের পাশাপাশি কপারও রয়েছে। আয়রনকে শরীরে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে কপারের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি১, বি৩, বি৬ ও ম্যাগনেশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় কী বলা হয়েছে?

কিছু গবেষণায় কালো তিলের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। একটি গবেষণায় কালো তিল খাওয়ার সঙ্গে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কিছু সূচক কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আরেকটি গবেষণায় নিয়মিত কালো তিলের গুঁড়া খাওয়ার পর রক্তচাপ ও রক্তনালির কার্যকারিতায় উন্নতি দেখা গেছে।

কালো তিলে থাকা সেসামিন ও সেসামোলিনের মতো উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করতে পারে।

কীভাবে খাবেন?

পুষ্টিবিদ পুজা মালহোত্রার মতে, কালো তিল হালকা ভেজে খাওয়া ভালো। কারণ কাঁচা তিলের কিছু উপাদান শরীরে খনিজ শোষণে বাধা দিতে পারে। তাই অল্প আঁচে ২-৩ মিনিট ভেজে এরপর গুঁড়া করে খাওয়া যেতে পারে।

পুজা মালহোত্রা প্রতিদিন এক টেবিল চামচ বা প্রায় ১০-১২ গ্রাম কালো তিল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সকালের রুটিনে কালো তিল যোগ করার ৩ সহজ উপায়

১. সকালের উষ্ণ পানীয়

এক চা-চামচ তাজা ভাজা ও গুঁড়া করা কালো তিল উষ্ণ বাদামের দুধ বা সাধারণ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন। এর সঙ্গে এক চিমটি জায়ফল ও কাঁচা মধু যোগ করা যেতে পারে।

২. এনার্জি স্মুদি টপার

প্রতিদিনের গ্রিন স্মুদি, দইয়ের বাটি বা সকালের পোরিজের ওপর ভাজা কালো তিল ছিটিয়ে খেতে পারেন। এতে খাবারে বাদামের মতো স্বাদ ও মচমচে টেক্সচার যোগ হবে।

৩. ঐতিহ্যবাহী এনার্জি লাড্ডু

ভাজা কালো তিলের সঙ্গে থেঁতো করা খেজুর ও অল্প A2 ঘি মিশিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করা যেতে পারে। দুপুরের ক্লান্তির সময় এটি চিনি ছাড়া এনার্জি বল হিসেবে খাওয়া যায়।

কারা সতর্ক থাকবেন?

কালো তিল বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সাধারণত নিরাপদ হলেও এতে ক্যালরি তুলনামূলক বেশি এবং প্রাকৃতিক অক্সালেট রয়েছে। যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস রয়েছে বা তিল/বীজে তীব্র অ্যালার্জি আছে, তারা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় কালো তিল যুক্ত করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: এনডিটিভি