গাজায় ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত ৮, ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘনের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলি হামলায় এক সাংবাদিকসহ অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে চলমান ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।
গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) হামলায় নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জারও ছিলেন। খবর আল জাজিরার।
তবে হামলার নির্দিষ্ট স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ২৬৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
ভ্যানে ড্রোন হামলা ও অন্যান্য সংঘাত: পৃথক এক ঘটনায় বুধবার গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মানবিক সংস্থা ‘ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা ১৩ জন আহত ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আহতদের অবস্থা বেশ গুরুতর।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানান, চিকিৎসকদের মতে আহতদের জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ বছরের পর বছর ধরে চলা ইসরাইলি হামলা ও অবরুদ্ধ অবস্থার ফলে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হামলায় অন্তত এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ড্রোনের হামলায় দুই শিশুসহ চারজন এবং মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরও দুজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি ট্যাংকের তীব্র গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
উদ্বেগজনক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ: গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে (যার মধ্যে ৮ জন নতুন হামলায় এবং ১ জন আগের আঘাতে মারা যান)। এর মধ্য দিয়ে গত অক্টোবর মাসে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ২৬ জন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরাইলের এই বর্বর হামলায় এ পর্যন্ত মোট ৭৪ হাজার ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের (UNOSAT) গত আগস্টের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেও গাজাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা (প্রায় ২ লাখ ভবন) ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত।













