০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার বিক্ষোভ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল নয়াদিল্লি। বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার ডাকা বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীদের বিশাল ভিড় ঠেলে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) ভবনের দিকে এগিয়ে যান কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী। তার পেছনে থাকা বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ সময় বিরোধী সংসদ সদস্যরা ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি’, ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’-এর মতো স্লোগান দিতে দিতে এগোতে থাকেন। পুলিশের একাধিক স্তরের ব্যারিকেডে আটকে গেলে রাহুল গান্ধী একটি ব্যারিকেডের ওপর উঠে যান। এ সময় তিনি হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে তা নাড়েন।

বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভে সমর্থন জানান। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিন ভারতের পার্লামেন্ট ভবন চত্বর থেকে মিছিল শুরু করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের গন্তব্য ছিল নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর।

মিছিলটি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যারিকেড বসানো ছিল।

পুলিশের বাধার মুখে রাহুল গান্ধী একটি ব্যারিকেডের ওপর উঠে যান। এ সময় তিনি হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন। তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাও ব্যারিকেডের ওপর ওঠেন।

পরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সড়কে বসে বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি’সহ বিভিন্ন লেখা সংবলিত ব্যানার ছিল।

মিছিল এগোতে না দেওয়ার পর পুলিশ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে। তাদের পুলিশ বাসে তোলা হয়। তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও আটক করা হয়। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বেরিয়ে এসে তারা ধর্নায় বসেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই আটক ও বিক্ষোভের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সোমবার নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার, জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোটিশ দিয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নেওয়া হয়েছে।

তবে আদালত আপাতত জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়নি। আদালত জানিয়েছে, সংবাদ প্রতিবেদন বা অনুমানের ভিত্তিতে এমন আদেশ দেওয়া যায় না; অভিযোগের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

সময় : ০৩:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল নয়াদিল্লি। বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার ডাকা বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীদের বিশাল ভিড় ঠেলে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) ভবনের দিকে এগিয়ে যান কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী। তার পেছনে থাকা বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ সময় বিরোধী সংসদ সদস্যরা ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি’, ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’-এর মতো স্লোগান দিতে দিতে এগোতে থাকেন। পুলিশের একাধিক স্তরের ব্যারিকেডে আটকে গেলে রাহুল গান্ধী একটি ব্যারিকেডের ওপর উঠে যান। এ সময় তিনি হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে তা নাড়েন।

বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভে সমর্থন জানান। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিন ভারতের পার্লামেন্ট ভবন চত্বর থেকে মিছিল শুরু করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের গন্তব্য ছিল নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর।

মিছিলটি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যারিকেড বসানো ছিল।

পুলিশের বাধার মুখে রাহুল গান্ধী একটি ব্যারিকেডের ওপর উঠে যান। এ সময় তিনি হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন। তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাও ব্যারিকেডের ওপর ওঠেন।

পরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সড়কে বসে বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি’সহ বিভিন্ন লেখা সংবলিত ব্যানার ছিল।

মিছিল এগোতে না দেওয়ার পর পুলিশ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে। তাদের পুলিশ বাসে তোলা হয়। তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও আটক করা হয়। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বেরিয়ে এসে তারা ধর্নায় বসেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই আটক ও বিক্ষোভের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সোমবার নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার, জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোটিশ দিয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নেওয়া হয়েছে।

তবে আদালত আপাতত জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়নি। আদালত জানিয়েছে, সংবাদ প্রতিবেদন বা অনুমানের ভিত্তিতে এমন আদেশ দেওয়া যায় না; অভিযোগের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।