সীতাকুণ্ডে আইআইইউসি গেটের অস্থায়ী গতিরোধক অপসারণ, স্থায়ী সমাধানে আসছে বিশেষজ্ঞ দল
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসানো অস্থায়ী গতিরোধক সরিয়ে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। গতিরোধক বসানোর পর মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে সেগুলো অপসারণ করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে সওজের কেন্দ্রীয় রোড সেফটি উইংয়ের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।
সওজ সূত্র জানায়, বিশেষজ্ঞ দলটি মহাসড়কের নকশা, যানবাহনের চাপ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্ধারণ করবে। তাদের কারিগরি পর্যালোচনার ভিত্তিতে ওই এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের নকশা তৈরি করা হবে।
গত ৩ নভেম্বর সীতাকুণ্ডের কুমিরায় আইআইইউসির প্রধান ফটকের সামনে দ্রুতগতির একটি লরির ধাক্কায় একটি মিনিবাস উল্টে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে নিরাপদ সড়ক, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধসহ আট দফা দাবিতে প্রায় সাত ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর স্থানীয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে অস্থায়ী রাম্বল স্ট্রিপ বসানো হয়। তবে মহাসড়কটিতে দূরপাল্লার ভারী যানবাহন, বিশেষ করে কনটেইনারবাহী লরি ও ট্রেইলারের চলাচল বেশি হওয়ায় এসব গতিরোধককে কেন্দ্র করে যানজট তৈরি হয়। যানজট এড়াতে কিছু যানবাহন উল্টো পথে চলাচল শুরু করলে নতুন করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে গতিরোধকগুলো অপসারণ শুরু করে সওজ।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্তে জরুরি ভিত্তিতে রাম্বল স্ট্রিপ বসানো হয়েছিল। তবে জাতীয় মহাসড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল বিবেচনায় এটি দীর্ঘমেয়াদি বা বিজ্ঞানসম্মত সমাধান ছিল না। এতে যানজটের পাশাপাশি চালকদের মধ্যে উল্টো পথে চলাচলের প্রবণতাও তৈরি হচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, গতিরোধক অপসারণের জায়গায় দৃশ্যমান থার্মোপ্লাস্টিক জেব্রা ক্রসিং আঁকা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ধীরে চলুন’ নির্দেশক প্রতিফলক সাইনবোর্ড বসানো হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য ঢাকার কেন্দ্রীয় রোড সেফটি উইংয়ের বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। তাঁরা সড়কের জ্যামিতিক নকশা, যানবাহনের চাপ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময়সূচি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্ধারণ করবেন।
শুধু আইআইইউসি গেট এলাকাই নয়, মহাসড়কের অন্যান্য স্থানেও কাঠামোগত নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে বলে জানান এই প্রকৌশলী। তাঁর ভাষ্য, শুভপুর সেতু থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ফুটওভারব্রিজ থাকলেও পথচারীদের একটি অংশ তা ব্যবহার করতে চান না। আবার কিছু শিল্পকারখানা অবৈধভাবে মহাসড়কের ডিভাইডার কেটে ফেলেছে। এসব কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অবৈধভাবে কেটে ফেলা ডিভাইডার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সওজ।
এদিকে আইআইইউসি গেট এলাকায় অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণে গত ৪ নভেম্বর অভিযান চালায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫টি মামলায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি অনুযায়ী, আইআইইউসি গেট এলাকায় আধুনিক ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে গত বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক।


















