০২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবেগী শেষ পোস্ট দিয়ে ফেনীর তরুণ পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা। কী লিখেছিলেন তাতে ?

নিউজ ডেস্ক

প্রেমে পরে বিয়ে ফাঁ/স নিলেন তরুণ পুলিশ কনস্টেবল, মৃ/ত্যুর আগে লিখে গেলেন দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাস।

১৬ জুলাই রাতে, সাঈদুল ইসলাম নামের এই পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত ম/র/দে/হ উদ্ধার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ। তিনি রিজার্ভ ফোর্সে কর্মরত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাস লিখেছেন, প্রেমিকার ছবিসহ ভিডিও প্রকাশও করেছেন। পাঠকদের জন্য সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

‘‘তোমায় কেন্দ্র করে আমি যে জগৎ সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলেছিলাম একটু একটু করে, হঠাৎ যেন সে জগৎটাকে দুইদিনেই চোখের সামনে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলে। আমি সবকিছু চুপচাপ দেখে গেলাম। সমুদ্রের মাঝখানে তরী ডোবা মানুষ অনেকক্ষণ সাঁতার কাটার পর যেমন কুলের দেখা না পেয়ে শেষমেশ নিয়তিকে মেনে নেয়, সদরে গ্রহন করে মৃত্যুকে, তেমনি আমারও যেন কিছুই করার নেই।

কত তুচ্ছ বাহানা দিয়ে মানুষ একটা গভীরতম সম্পর্কের ইতি টানে, আমি অবাক হই, মানুষ আসলেই কী মানুষকে ভালোবাসে..?

জানো.? মাঝে মাঝে কেন জানি নিজেরে দেখলে
নিজের অনেক মায়া লাগে, হাহাকার লাগে কি হয়ে গেলাম কি বানাইয়া গেলা, আচ্ছা বলতো আমার দোষটা কি ছিল.? কি করছিলাম আমি.? তোমারে ভালোবাসাটা অপরাধ.? নাকি সব কিছু উপেক্ষা করে তোমাকে বিয়ে করাটা অপরাধ.?

তুমি না বলছিলা মৃত্যু ছাড়া তুমি কখনোই আমাকে ছেড়ে যাবে না.? এখন কই তুমি? আমিতো তোমার অভাবেই শেষ হয়ে গেলাম, অনেকবারই তো আঘাত করছো সব ভুলে বার বার মাপ করে তোমাকে বুকে টেনে নিলাম এই মূল্য দিলা.? একেবারেই শেষ করে দিতে আসলা? আমি তো নিয়তি মেনে নিয়ে দুরেই ছিলাম তোমার থেকে কেন আবার আসছিলা কেন এত কাছে আসচিলা? কোন উত্তর খুঁজে পাইনা আমি।
শুধু দ্বিতীয় বার না
তৃতীয় বার না
চতুর্থ বার না
আমি হাজার বার সুযোগ দিয়েছি
কিন্তু তুমি প্রতিবার’ই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছো
মানুষকে এতটাও বিশ্বাস করতে হয়না যে বিশ্বাস করলে নিজেই আর বাঁচার সুযোগ থাকেনা।

হারিয়ে ফেলতে চাইনি বলে’ই আমাদের সম্পর্কের নাম দিয়েছি স্বামী-স্ত্রী। যদি তোমাকে হারানোর ইচ্ছে থাকত, যদি এই ভালোবাসা ক্ষণিকের মোহ হতো তবে কখনোই এত পবিত্র এক বন্ধনের নামে তোমাকে নিজের বলে ঘোষণা করতাম না। কখনোই তোমাকে নিজের নামে লিখিত করতাম না। আমার কাছে এই সম্পর্ক কোনো সাময়িক অনুভূতি নয় এটি আজীবনের অঙ্গীকার, বিশ্বস্ততা আর একে অপরকে পাশে থাকার নীরব শপথ ছিল কিন্তু তুমি সব শেষ করে দিলা।
আচ্ছা যদি যাওয়ারই ছিল আসছিলাই কেন.?

বহুকাল বয়ে বেড়াতে হবে হৃদয় ভাঙ্গা এই ব্যাথা, হয়তো এই জন্মে আর সেরে উঠবে না মৃত্যু ছাড়া,।
তাই আমি সেই পথেই গেলাম।
সারা জীবন মানুষের” বুঝাইলাম অথচ
দিন শেষ এসে দেখি আমি নিজেই
অবুঝ..!

যাও ভলো থালো যতটুকু দূরত্ব নিয়ে তুমি চলে গেলে তার থেকে দ্বিগুণ দূরত্ব নিয়ে আমি হারিয়ে গেলাম সুখে থাকো এটাই কামনা। তোমাকে বলেছিলাম না এটাই আমার শেষ শক্তি হয়তো তুমি, নয়তো আমি শেষ।নাও তারও প্রমাণ দিলাম সারা জীবন তো প্রমাণই দিয়ে আসলাম তারপরও। যাই হোক।

তুমি তো জানোই চাইলে আমি অনেক কিছুই করতে পারতাম কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ তো তুমি হয়ে গেলা কি আর করব,
যাও প্রমাণ সব তোমার অনুকূলে কারন আমার পক্ষের উকিল হচ্ছে এমন নীরবতা আমার নীরবে হারিয়ে যাওয়া, যেখানে তুমি জবানবন্দি দিলে আর তুমি দিলে বিচ্ছেদের চূড়ান্ত রায়।

দুঃখিত আম্মু আব্বু আপনাদের ছেলে আর নিতে পারতেচেনা আম্মু আর পারতেচেনা আর তিলে তিলে মরার শক্তি আমার নাই। মাপ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে। আমার যেন আর কিছুই করার নাই।।
একদম ভেঙে চুরে শেষ হয়ে গেলাম।

আবেগী শেষ পোস্ট দিয়ে ফেনীর তরুণ পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা। কী লিখেছিলেন তাতে ?

সময় : ০৯:১১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

প্রেমে পরে বিয়ে ফাঁ/স নিলেন তরুণ পুলিশ কনস্টেবল, মৃ/ত্যুর আগে লিখে গেলেন দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাস।

১৬ জুলাই রাতে, সাঈদুল ইসলাম নামের এই পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত ম/র/দে/হ উদ্ধার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ। তিনি রিজার্ভ ফোর্সে কর্মরত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাস লিখেছেন, প্রেমিকার ছবিসহ ভিডিও প্রকাশও করেছেন। পাঠকদের জন্য সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

‘‘তোমায় কেন্দ্র করে আমি যে জগৎ সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলেছিলাম একটু একটু করে, হঠাৎ যেন সে জগৎটাকে দুইদিনেই চোখের সামনে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলে। আমি সবকিছু চুপচাপ দেখে গেলাম। সমুদ্রের মাঝখানে তরী ডোবা মানুষ অনেকক্ষণ সাঁতার কাটার পর যেমন কুলের দেখা না পেয়ে শেষমেশ নিয়তিকে মেনে নেয়, সদরে গ্রহন করে মৃত্যুকে, তেমনি আমারও যেন কিছুই করার নেই।

কত তুচ্ছ বাহানা দিয়ে মানুষ একটা গভীরতম সম্পর্কের ইতি টানে, আমি অবাক হই, মানুষ আসলেই কী মানুষকে ভালোবাসে..?

জানো.? মাঝে মাঝে কেন জানি নিজেরে দেখলে
নিজের অনেক মায়া লাগে, হাহাকার লাগে কি হয়ে গেলাম কি বানাইয়া গেলা, আচ্ছা বলতো আমার দোষটা কি ছিল.? কি করছিলাম আমি.? তোমারে ভালোবাসাটা অপরাধ.? নাকি সব কিছু উপেক্ষা করে তোমাকে বিয়ে করাটা অপরাধ.?

তুমি না বলছিলা মৃত্যু ছাড়া তুমি কখনোই আমাকে ছেড়ে যাবে না.? এখন কই তুমি? আমিতো তোমার অভাবেই শেষ হয়ে গেলাম, অনেকবারই তো আঘাত করছো সব ভুলে বার বার মাপ করে তোমাকে বুকে টেনে নিলাম এই মূল্য দিলা.? একেবারেই শেষ করে দিতে আসলা? আমি তো নিয়তি মেনে নিয়ে দুরেই ছিলাম তোমার থেকে কেন আবার আসছিলা কেন এত কাছে আসচিলা? কোন উত্তর খুঁজে পাইনা আমি।
শুধু দ্বিতীয় বার না
তৃতীয় বার না
চতুর্থ বার না
আমি হাজার বার সুযোগ দিয়েছি
কিন্তু তুমি প্রতিবার’ই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছো
মানুষকে এতটাও বিশ্বাস করতে হয়না যে বিশ্বাস করলে নিজেই আর বাঁচার সুযোগ থাকেনা।

হারিয়ে ফেলতে চাইনি বলে’ই আমাদের সম্পর্কের নাম দিয়েছি স্বামী-স্ত্রী। যদি তোমাকে হারানোর ইচ্ছে থাকত, যদি এই ভালোবাসা ক্ষণিকের মোহ হতো তবে কখনোই এত পবিত্র এক বন্ধনের নামে তোমাকে নিজের বলে ঘোষণা করতাম না। কখনোই তোমাকে নিজের নামে লিখিত করতাম না। আমার কাছে এই সম্পর্ক কোনো সাময়িক অনুভূতি নয় এটি আজীবনের অঙ্গীকার, বিশ্বস্ততা আর একে অপরকে পাশে থাকার নীরব শপথ ছিল কিন্তু তুমি সব শেষ করে দিলা।
আচ্ছা যদি যাওয়ারই ছিল আসছিলাই কেন.?

বহুকাল বয়ে বেড়াতে হবে হৃদয় ভাঙ্গা এই ব্যাথা, হয়তো এই জন্মে আর সেরে উঠবে না মৃত্যু ছাড়া,।
তাই আমি সেই পথেই গেলাম।
সারা জীবন মানুষের” বুঝাইলাম অথচ
দিন শেষ এসে দেখি আমি নিজেই
অবুঝ..!

যাও ভলো থালো যতটুকু দূরত্ব নিয়ে তুমি চলে গেলে তার থেকে দ্বিগুণ দূরত্ব নিয়ে আমি হারিয়ে গেলাম সুখে থাকো এটাই কামনা। তোমাকে বলেছিলাম না এটাই আমার শেষ শক্তি হয়তো তুমি, নয়তো আমি শেষ।নাও তারও প্রমাণ দিলাম সারা জীবন তো প্রমাণই দিয়ে আসলাম তারপরও। যাই হোক।

তুমি তো জানোই চাইলে আমি অনেক কিছুই করতে পারতাম কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ তো তুমি হয়ে গেলা কি আর করব,
যাও প্রমাণ সব তোমার অনুকূলে কারন আমার পক্ষের উকিল হচ্ছে এমন নীরবতা আমার নীরবে হারিয়ে যাওয়া, যেখানে তুমি জবানবন্দি দিলে আর তুমি দিলে বিচ্ছেদের চূড়ান্ত রায়।

দুঃখিত আম্মু আব্বু আপনাদের ছেলে আর নিতে পারতেচেনা আম্মু আর পারতেচেনা আর তিলে তিলে মরার শক্তি আমার নাই। মাপ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে। আমার যেন আর কিছুই করার নাই।।
একদম ভেঙে চুরে শেষ হয়ে গেলাম।