১০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুগলের সার্চ ফলাফলে প্রতারণার ফাঁদ: ভুয়া স্পনসরড লিংক চিনবেন যেভাবে

প্রযুক্তি ডেস্ক

গুগলের সার্চ ফলাফলে ভুয়া স্পনসরড লিংকের মাধ্যমে বাড়ছে সাইবার প্রতারণা।

প্রযুক্তি ডেস্ক |

গুগলে কোনো পণ্য, সেবা বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য খুঁজতে গিয়ে অধিকাংশ ব্যবহারকারী সার্চ ফলাফলের প্রথমে থাকা লিংকেই ক্লিক করেন। অনেকের ধারণা, সার্চ তালিকার শীর্ষে থাকা ওয়েবসাইটই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় প্রথমে দেখা লিংকটি অর্থের বিনিময়ে প্রকাশিত স্পনসরড বিজ্ঞাপন হতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাইবার প্রতারকেরা পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।

কীভাবে চলছে এই প্রতারণা?

সাইবার অপরাধীরা গুগলে স্পনসরড বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজেদের তৈরি ভুয়া ওয়েবসাইট সার্চ ফলাফলের একেবারে ওপরে দেখায়। এসব ওয়েবসাইটের ডিজাইন, লোগো, রং, ভাষা এমনকি ওয়েব ঠিকানাও অনেক ক্ষেত্রে আসল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভ্রান্ত হন।

এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে অনেক সময় নকল পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখানো হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড নম্বর, ব্যাংক তথ্য, পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো ব্যবহার করে অর্থ চুরি, পরিচয় জালিয়াতি বা অনলাইন অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়।

শুধু গুগল নয়, অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও একই কৌশল

এ ধরনের প্রতারণা শুধু গুগলে সীমাবদ্ধ নয়। বিংসহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন এবং ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভুয়া স্পনসরড বিজ্ঞাপন দেখা যায়।

তবে সব স্পনসরড বিজ্ঞাপন প্রতারণামূলক নয়। অনেক বৈধ প্রতিষ্ঠানও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সার্চ ফলাফলের শীর্ষে আসে। তাই লিংকে ক্লিক করার আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ডেমন ম্যাককয়ের মতে, প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটগুলো সাধারণত এমন অর্থপ্রদানের পদ্ধতি ব্যবহার করতে বলে, যেখান থেকে অর্থ ফেরত পাওয়া কঠিন।

এ ছাড়া বড় ধরনের ছাড়ের লোভ দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, ফোন নম্বর, ব্যাংক তথ্য বা পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতারণা চালানো হয়।

প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ঠেকাতে গুগলের পদক্ষেপ

গুগলের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণাসংশ্লিষ্ট ৬০ কোটি ২০ লাখের বেশি বিজ্ঞাপন এবং ৪০ লাখ অ্যাকাউন্ট অপসারণ করেছে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে বিজ্ঞাপনদাতাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করা হয়েছে।

ভুয়া স্পনসরড লিংক চিনবেন যেভাবে

  • ওয়েবসাইটের ঠিকানা (URL) ভালোভাবে যাচাই করুন।
  • প্রতিষ্ঠানের নামের বানানে অতিরিক্ত অক্ষর, সংখ্যা বা সামান্য পরিবর্তন থাকলে সতর্ক থাকুন।
  • “মাত্র কয়েক মিনিটের অফার” বা “এখনই ব্যবস্থা নিন”—এ ধরনের তাড়াহুড়ার বার্তা সন্দেহজনক হতে পারে।
  • অস্বাভাবিক কম দামের অফার দেখলে যাচাই ছাড়া অর্থ পরিশোধ করবেন না।
  • শুধুমাত্র ব্যাংক ট্রান্সফার বা বিকল্প পেমেন্ট পদ্ধতির অনুরোধ এলে সতর্ক থাকুন।
  • ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত বানান বা ভাষাগত ভুল থাকলে সেটিও প্রতারণার ইঙ্গিত হতে পারে।

নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—

  • স্পনসরড লিংকে ক্লিক করার আগে ওয়েব ঠিকানা যাচাই করুন।
  • সম্ভব হলে সার্চ ফলাফলের স্বাভাবিক (Organic) লিংক থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
  • ভুলবশত ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাংক তথ্য দিয়ে ফেললে দ্রুত ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • প্রয়োজন হলে কার্ড ব্লক করে নতুন কার্ড সংগ্রহ করুন।
  • সংশ্লিষ্ট অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং প্রয়োজন হলে অভিযোগ জানান।

গুগলের সার্চ ফলাফলে প্রতারণার ফাঁদ: ভুয়া স্পনসরড লিংক চিনবেন যেভাবে

সময় : ১১:৩৫:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক |

গুগলে কোনো পণ্য, সেবা বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য খুঁজতে গিয়ে অধিকাংশ ব্যবহারকারী সার্চ ফলাফলের প্রথমে থাকা লিংকেই ক্লিক করেন। অনেকের ধারণা, সার্চ তালিকার শীর্ষে থাকা ওয়েবসাইটই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় প্রথমে দেখা লিংকটি অর্থের বিনিময়ে প্রকাশিত স্পনসরড বিজ্ঞাপন হতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাইবার প্রতারকেরা পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।

কীভাবে চলছে এই প্রতারণা?

সাইবার অপরাধীরা গুগলে স্পনসরড বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজেদের তৈরি ভুয়া ওয়েবসাইট সার্চ ফলাফলের একেবারে ওপরে দেখায়। এসব ওয়েবসাইটের ডিজাইন, লোগো, রং, ভাষা এমনকি ওয়েব ঠিকানাও অনেক ক্ষেত্রে আসল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভ্রান্ত হন।

এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে অনেক সময় নকল পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখানো হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড নম্বর, ব্যাংক তথ্য, পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো ব্যবহার করে অর্থ চুরি, পরিচয় জালিয়াতি বা অনলাইন অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়।

শুধু গুগল নয়, অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও একই কৌশল

এ ধরনের প্রতারণা শুধু গুগলে সীমাবদ্ধ নয়। বিংসহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন এবং ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভুয়া স্পনসরড বিজ্ঞাপন দেখা যায়।

তবে সব স্পনসরড বিজ্ঞাপন প্রতারণামূলক নয়। অনেক বৈধ প্রতিষ্ঠানও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সার্চ ফলাফলের শীর্ষে আসে। তাই লিংকে ক্লিক করার আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ডেমন ম্যাককয়ের মতে, প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটগুলো সাধারণত এমন অর্থপ্রদানের পদ্ধতি ব্যবহার করতে বলে, যেখান থেকে অর্থ ফেরত পাওয়া কঠিন।

এ ছাড়া বড় ধরনের ছাড়ের লোভ দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, ফোন নম্বর, ব্যাংক তথ্য বা পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতারণা চালানো হয়।

প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ঠেকাতে গুগলের পদক্ষেপ

গুগলের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণাসংশ্লিষ্ট ৬০ কোটি ২০ লাখের বেশি বিজ্ঞাপন এবং ৪০ লাখ অ্যাকাউন্ট অপসারণ করেছে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে বিজ্ঞাপনদাতাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করা হয়েছে।

ভুয়া স্পনসরড লিংক চিনবেন যেভাবে

  • ওয়েবসাইটের ঠিকানা (URL) ভালোভাবে যাচাই করুন।
  • প্রতিষ্ঠানের নামের বানানে অতিরিক্ত অক্ষর, সংখ্যা বা সামান্য পরিবর্তন থাকলে সতর্ক থাকুন।
  • “মাত্র কয়েক মিনিটের অফার” বা “এখনই ব্যবস্থা নিন”—এ ধরনের তাড়াহুড়ার বার্তা সন্দেহজনক হতে পারে।
  • অস্বাভাবিক কম দামের অফার দেখলে যাচাই ছাড়া অর্থ পরিশোধ করবেন না।
  • শুধুমাত্র ব্যাংক ট্রান্সফার বা বিকল্প পেমেন্ট পদ্ধতির অনুরোধ এলে সতর্ক থাকুন।
  • ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত বানান বা ভাষাগত ভুল থাকলে সেটিও প্রতারণার ইঙ্গিত হতে পারে।

নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—

  • স্পনসরড লিংকে ক্লিক করার আগে ওয়েব ঠিকানা যাচাই করুন।
  • সম্ভব হলে সার্চ ফলাফলের স্বাভাবিক (Organic) লিংক থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
  • ভুলবশত ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাংক তথ্য দিয়ে ফেললে দ্রুত ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • প্রয়োজন হলে কার্ড ব্লক করে নতুন কার্ড সংগ্রহ করুন।
  • সংশ্লিষ্ট অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং প্রয়োজন হলে অভিযোগ জানান।