০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করল ইইউ, প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। সার্চ ইঞ্জিনে নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার এ জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউরোপীয় কমিশনের অভিযোগ, গুগল তাদের প্রভাবশালী অবস্থান ব্যবহার করে কেনাকাটা, ভ্রমণ, গেমস ও অনুবাদের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় নিজেদের পণ্য ও সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবাকে সার্চ ফলাফলে পিছিয়ে দিয়েছে, যা ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিপন্থী।

ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, গুগল ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) লঙ্ঘন করেছে। ২০২২ সালে চালু হওয়া এই আইনের লক্ষ্য হলো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিজেদের একাধিক সেবা ব্যবহার করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গুগল প্লে অ্যাপ স্টোরে এমন কিছু বিধিনিষেধ ছিল, যার কারণে অ্যাপ নির্মাতারা ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বা লেনদেন করতে পারতেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, গুগলের কমিশন কমে যাওয়া ঠেকাতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

৬০ দিনের মধ্যে পরিবর্তনের নির্দেশ

ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গুগলকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী অনলাইন সেবাগুলোকে সার্চ ফলাফলে আরও দৃশ্যমান করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত জরিমানা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা

ইইউয়ের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও অভিযোগ করেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অন্যায্যভাবে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করছে। গুগলের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের পর ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা।

ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য পরিস্থিতির কারণে নয়, বরং তদন্ত শেষ হওয়ায় এই জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গুগলের আপত্তি

গুগলের প্রধান আইন কর্মকর্তা কেন্ট ওয়াকার বলেছেন, ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্তের কারণে পণ্যের নকশায় পরিবর্তন আনতে হবে, যার ফলে ইউরোপের ব্যবহারকারীরা সেবার মানের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হওয়া উচিত পণ্যের মান উন্নত করা, কমিয়ে দেওয়া নয়।

এক দশকে বড় অঙ্কের জরিমানা

গত এক দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল গুগল। ২০১৭ সালের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০০ কোটি ইউরোর বেশি জরিমানা করা হয়েছে।

যদিও গুগলের আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় এবারের জরিমানার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ত্রৈমাসিক মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

শুধু গুগল নয়, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুধু গুগলের বিরুদ্ধেই নয়, অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে প্রতিদ্বন্দ্বী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মেটাকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত আসক্তি কমানো যায়।

চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অবৈধ ও অনিরাপদ পণ্য বিক্রির অভিযোগে আলিবাবার আলিএক্সপ্রেসকে জরিমানা করা হয়েছে এবং টিকটকের বিরুদ্ধেও ব্যবহারকারী সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে ইউরোপ

তথ্য সুরক্ষা, প্রতিযোগিতা এবং অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের অন্যতম কঠোর নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কিছু বিধিনিষেধ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত ও জরিমানা অব্যাহত রেখেছে ইইউ।

গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করল ইইউ, প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

সময় : ০৬:৫০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। সার্চ ইঞ্জিনে নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার এ জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউরোপীয় কমিশনের অভিযোগ, গুগল তাদের প্রভাবশালী অবস্থান ব্যবহার করে কেনাকাটা, ভ্রমণ, গেমস ও অনুবাদের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় নিজেদের পণ্য ও সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবাকে সার্চ ফলাফলে পিছিয়ে দিয়েছে, যা ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিপন্থী।

ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, গুগল ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) লঙ্ঘন করেছে। ২০২২ সালে চালু হওয়া এই আইনের লক্ষ্য হলো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিজেদের একাধিক সেবা ব্যবহার করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গুগল প্লে অ্যাপ স্টোরে এমন কিছু বিধিনিষেধ ছিল, যার কারণে অ্যাপ নির্মাতারা ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বা লেনদেন করতে পারতেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, গুগলের কমিশন কমে যাওয়া ঠেকাতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

৬০ দিনের মধ্যে পরিবর্তনের নির্দেশ

ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গুগলকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী অনলাইন সেবাগুলোকে সার্চ ফলাফলে আরও দৃশ্যমান করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত জরিমানা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা

ইইউয়ের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও অভিযোগ করেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অন্যায্যভাবে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করছে। গুগলের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের পর ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা।

ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য পরিস্থিতির কারণে নয়, বরং তদন্ত শেষ হওয়ায় এই জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গুগলের আপত্তি

গুগলের প্রধান আইন কর্মকর্তা কেন্ট ওয়াকার বলেছেন, ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্তের কারণে পণ্যের নকশায় পরিবর্তন আনতে হবে, যার ফলে ইউরোপের ব্যবহারকারীরা সেবার মানের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হওয়া উচিত পণ্যের মান উন্নত করা, কমিয়ে দেওয়া নয়।

এক দশকে বড় অঙ্কের জরিমানা

গত এক দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল গুগল। ২০১৭ সালের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০০ কোটি ইউরোর বেশি জরিমানা করা হয়েছে।

যদিও গুগলের আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় এবারের জরিমানার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ত্রৈমাসিক মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

শুধু গুগল নয়, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুধু গুগলের বিরুদ্ধেই নয়, অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে প্রতিদ্বন্দ্বী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মেটাকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত আসক্তি কমানো যায়।

চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অবৈধ ও অনিরাপদ পণ্য বিক্রির অভিযোগে আলিবাবার আলিএক্সপ্রেসকে জরিমানা করা হয়েছে এবং টিকটকের বিরুদ্ধেও ব্যবহারকারী সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে ইউরোপ

তথ্য সুরক্ষা, প্রতিযোগিতা এবং অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের অন্যতম কঠোর নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কিছু বিধিনিষেধ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত ও জরিমানা অব্যাহত রেখেছে ইইউ।