আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে
নওগাঁয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে
নওগাঁ: আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে শ্রেণিকক্ষে গান গাওয়ার অভিযোগে ১৭ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষে গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগ
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিদ্যালয় চলাকালে চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে একটি গান গাইছিল।
গানের শব্দ শুনে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে একটি বৈদ্যুতিক তার নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শ্রেণিকক্ষে থাকা ২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন এ ঘটনায় শারীরিকভাবে আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থী রয়েছে।
বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে জড়ো হন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হয়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার ও আব্দুর রহমান জানায়, আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে পরাজিত হয়েছে—এ নিয়ে কয়েকজন মিলে শ্রেণিকক্ষে ব্যঙ্গ করে গান গাইছিল তারা।
তাদের ভাষ্য, এরপর শিক্ষক আব্দুস সালাম এসে রেগে গিয়ে প্রায় সবাইকে মারধর করেন।
ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষমাপ্রার্থী।
তিনি জানান, বিষয়টি অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবেন।
তদন্তের কথা জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ছানাউল হাবিব বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






















