০৫:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে ১৮ লাখ টাকা খুইয়ে হাঙ্গেরিতে প্রাণ হারালেন ফেনীর বুলবুল

নিউজ ডেস্ক

ইউরোপ যাওয়ার আশায় ১৮ লাখ টাকা খরচ করেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি ফেনীর বুলবুল।

ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নের করুণ পরিণতি

পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ইউরোপ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ফেনীর দাগনভূঞার ফরিদুর রহমান বুলবুল।

কিন্তু দালালের প্রতারণার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে তাকে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান।


১৮ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন দালালের সঙ্গে

নিহত বুলবুল (৩২) দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহিগুনী এলাকার বাসিন্দা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার মধ্যস্থতাকারী মো. দুলালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

দুলাল সরাসরি বিমানে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে বুলবুল তার সঙ্গে ১৮ লাখ টাকার চুক্তি করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে নগদ ও চেকের মাধ্যমে পুরো টাকা পরিশোধ করে পরিবার।


ইতালির বদলে নেওয়া হয় কয়েকটি দেশে

চুক্তি অনুযায়ী গত ১৬ জুন ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন বুলবুল।

তবে তাকে সরাসরি ইতালি না নিয়ে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নেওয়া হয়। এরপর সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নেওয়া হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার কারণে হাঙ্গেরির একটি জঙ্গলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


স্ত্রী ও সন্তান রেখে না ফেরার দেশে বুলবুল

বুলবুলের পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান।

বর্তমানে তার স্ত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

স্বজনরা জানান, এর আগে দীর্ঘদিন সৌদি আরবের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতেন বুলবুল। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।


শেষ কথোপকথনে জানিয়েছিলেন প্রতারণার কথা

নিহতের ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ জুন বুলবুলের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়।

সে সময় বুলবুল জানিয়েছিলেন, দালাল দুলাল তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতালি না নিয়ে গিয়ে অন্য পথে নিয়ে যাচ্ছেন।

এরপর ২৬ জুন থেকে ইমোতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।


দালালের শাস্তি দাবি পরিবারের

পরিবারের অভিযোগ, দালালের কারণে তাদের স্বজনের মৃত্যু হয়েছে।

তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


হাঙ্গেরি পুলিশের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর

পরিবার জানায়, রোববার সকালে হাঙ্গেরি পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

পরে দাগনভূঞা থানা পুলিশের সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে বুলবুলের মরদেহ হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে রয়েছে।


প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস

দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে পরিচয় যাচাই করে পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে ১৮ লাখ টাকা খুইয়ে হাঙ্গেরিতে প্রাণ হারালেন ফেনীর বুলবুল

সময় : ০৪:১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নের করুণ পরিণতি

পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ইউরোপ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ফেনীর দাগনভূঞার ফরিদুর রহমান বুলবুল।

কিন্তু দালালের প্রতারণার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে তাকে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান।


১৮ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন দালালের সঙ্গে

নিহত বুলবুল (৩২) দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহিগুনী এলাকার বাসিন্দা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার মধ্যস্থতাকারী মো. দুলালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

দুলাল সরাসরি বিমানে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে বুলবুল তার সঙ্গে ১৮ লাখ টাকার চুক্তি করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে নগদ ও চেকের মাধ্যমে পুরো টাকা পরিশোধ করে পরিবার।


ইতালির বদলে নেওয়া হয় কয়েকটি দেশে

চুক্তি অনুযায়ী গত ১৬ জুন ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন বুলবুল।

তবে তাকে সরাসরি ইতালি না নিয়ে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নেওয়া হয়। এরপর সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নেওয়া হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার কারণে হাঙ্গেরির একটি জঙ্গলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


স্ত্রী ও সন্তান রেখে না ফেরার দেশে বুলবুল

বুলবুলের পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান।

বর্তমানে তার স্ত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

স্বজনরা জানান, এর আগে দীর্ঘদিন সৌদি আরবের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতেন বুলবুল। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।


শেষ কথোপকথনে জানিয়েছিলেন প্রতারণার কথা

নিহতের ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ জুন বুলবুলের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়।

সে সময় বুলবুল জানিয়েছিলেন, দালাল দুলাল তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতালি না নিয়ে গিয়ে অন্য পথে নিয়ে যাচ্ছেন।

এরপর ২৬ জুন থেকে ইমোতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।


দালালের শাস্তি দাবি পরিবারের

পরিবারের অভিযোগ, দালালের কারণে তাদের স্বজনের মৃত্যু হয়েছে।

তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


হাঙ্গেরি পুলিশের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর

পরিবার জানায়, রোববার সকালে হাঙ্গেরি পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

পরে দাগনভূঞা থানা পুলিশের সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে বুলবুলের মরদেহ হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে রয়েছে।


প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস

দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে পরিচয় যাচাই করে পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।