০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার, মূলহোতা রুবেল গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

ঢাকা: কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে মানব পাচার, অর্থ আত্মসাৎ এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মো. রুবেল (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানায়, গত মঙ্গলবার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার খাগজানায়।

চাকরির প্রলোভনে অর্থ আদায়

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকটে থাকা ভুক্তভোগী এক নারী স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নেন। ওই এনজিওতে কর্মরত রুবেলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে রুবেল কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেন।

ভুক্তভোগীর আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিতে সহায়তা করেন রুবেল। ঋণের অর্থ পাওয়ার পর তিনি তা নিজের কাছে রেখে দেন এবং ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। পরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আরও অর্থ নেন।

ধারদেনা করে ভুক্তভোগী রুবেলের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে আরও দুই লাখ টাকা জমা দেন। সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে তাঁর কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়া হয়।

কম্বোডিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর মানব পাচার চক্রের সদস্যরা তাঁর পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা অর্থ জোরপূর্বক কেড়ে নেন।

এরপর তাঁকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে অনিচ্ছাকৃতভাবে কাজ করানো হয় এবং তাঁর উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তাঁকে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে দেশে ফিরতে চাইলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়ারও ভয় দেখানো হয়।

আন্তর্জাতিক সহায়তায় দেশে ফেরা

নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগী দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও মানবিক সংস্থার সহায়তায় তিনি গত ১ জুলাই বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সিআইডির তদন্ত অব্যাহত

সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ, নথিপত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান অভিযুক্ত রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্তে মানব পাচার চক্রের অন্যান্য সদস্য, আর্থিক লেনদেন, বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য ভুক্তভোগী এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তের কাজ চলছে। একই সঙ্গে এই আন্তর্দেশীয় চক্রের মাধ্যমে আরও কোনো বাংলাদেশি একইভাবে পাচার বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার, মূলহোতা রুবেল গ্রেপ্তার

সময় : ০৬:২৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ঢাকা: কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে মানব পাচার, অর্থ আত্মসাৎ এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মো. রুবেল (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানায়, গত মঙ্গলবার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার খাগজানায়।

চাকরির প্রলোভনে অর্থ আদায়

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকটে থাকা ভুক্তভোগী এক নারী স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নেন। ওই এনজিওতে কর্মরত রুবেলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে রুবেল কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেন।

ভুক্তভোগীর আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিতে সহায়তা করেন রুবেল। ঋণের অর্থ পাওয়ার পর তিনি তা নিজের কাছে রেখে দেন এবং ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। পরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আরও অর্থ নেন।

ধারদেনা করে ভুক্তভোগী রুবেলের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে আরও দুই লাখ টাকা জমা দেন। সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে তাঁর কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়া হয়।

কম্বোডিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর মানব পাচার চক্রের সদস্যরা তাঁর পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা অর্থ জোরপূর্বক কেড়ে নেন।

এরপর তাঁকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে অনিচ্ছাকৃতভাবে কাজ করানো হয় এবং তাঁর উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তাঁকে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে দেশে ফিরতে চাইলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়ারও ভয় দেখানো হয়।

আন্তর্জাতিক সহায়তায় দেশে ফেরা

নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগী দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও মানবিক সংস্থার সহায়তায় তিনি গত ১ জুলাই বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সিআইডির তদন্ত অব্যাহত

সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ, নথিপত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান অভিযুক্ত রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্তে মানব পাচার চক্রের অন্যান্য সদস্য, আর্থিক লেনদেন, বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য ভুক্তভোগী এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তের কাজ চলছে। একই সঙ্গে এই আন্তর্দেশীয় চক্রের মাধ্যমে আরও কোনো বাংলাদেশি একইভাবে পাচার বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।