১১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে মৃত্যুর পর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন, ১০ বছরে আহত অন্তত ১৯ পর্যটক

নিউজ ডেস্ক

দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের অভিযান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

# কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে মৃত্যুর পর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন, ১০ বছরে আহত অন্তত ১৯ পর্যটক

কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে সৈকতের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছরে একই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিংয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন পর্যটক।

## অনুমোদন ছাড়াই চলছিল প্যারাসেইলিং

তদন্তে উঠে এসেছে, কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটিরই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, বৈরী আবহাওয়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল কিছু প্রতিষ্ঠান।

দুর্ঘটনাটি ঘটে ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই সেদিন প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা হচ্ছিল।

## ১০ বছরে অন্তত ১৯ জন আহত

তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে এই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং থেকে সমুদ্রে পড়ে যাওয়া, ঝাউবাগানে আটকে যাওয়া কিংবা বালুচরে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন পর্যটক।

এছাড়া হিমছড়ি ও প্যাঁচারদ্বীপ সৈকতে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান—’ফানফেস্ট প্যারাসেইলিং’ ও ‘স্যাটেলাইট ভিশন প্যারাসেইলিং’—এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দুর্ঘটনার পর তিন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

## বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টুয়াক) নেতারা বলছেন, পর্যাপ্ত প্রশাসনিক তদারকি, প্রশিক্ষিত কর্মী ও আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তাদের মতে, অনভিজ্ঞ কর্মী দিয়ে পরিচালিত এসব কার্যক্রম শুধু পর্যটকদের জীবনই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে না, দেশের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

## আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নেই

বিশ্বব্যাপী প্যারাসেইলিং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস হিসেবে বিবেচিত। তাই অধিকাংশ দেশে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত অপারেটর, নিয়মিত সরঞ্জাম পরীক্ষা, জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

তবে কক্সবাজারে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এসব নিরাপত্তা শর্ত পূরণের প্রমাণ মেলেনি।

## প্রশাসনের বক্তব্য

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলার কোনো প্রতিষ্ঠান বৈধ লাইসেন্স নিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করছে না। ইজারার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও একাধিকবার অভিযান চালানোর পরও কিছু প্রতিষ্ঠান গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।

তিনি জানান, পর্যটকের মৃত্যুর পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্যারাসেইলিংয়ের যন্ত্রপাতি জব্দ করেছেন। কাগজপত্র ও সরঞ্জাম পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

## পর্যটকদের করণীয়

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্যারাসেইলিং করার আগে প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, লাইফ জ্যাকেট, হারনেস ও সেফটি হুক ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।

এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা উচ্চতাভীতি থাকলে এই ধরনের রাইড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে মৃত্যুর পর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন, ১০ বছরে আহত অন্তত ১৯ পর্যটক

সময় : ০৫:০৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

# কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে মৃত্যুর পর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন, ১০ বছরে আহত অন্তত ১৯ পর্যটক

কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে সৈকতের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছরে একই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিংয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন পর্যটক।

## অনুমোদন ছাড়াই চলছিল প্যারাসেইলিং

তদন্তে উঠে এসেছে, কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটিরই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, বৈরী আবহাওয়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল কিছু প্রতিষ্ঠান।

দুর্ঘটনাটি ঘটে ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই সেদিন প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা হচ্ছিল।

## ১০ বছরে অন্তত ১৯ জন আহত

তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে এই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং থেকে সমুদ্রে পড়ে যাওয়া, ঝাউবাগানে আটকে যাওয়া কিংবা বালুচরে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন পর্যটক।

এছাড়া হিমছড়ি ও প্যাঁচারদ্বীপ সৈকতে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান—’ফানফেস্ট প্যারাসেইলিং’ ও ‘স্যাটেলাইট ভিশন প্যারাসেইলিং’—এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দুর্ঘটনার পর তিন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

## বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টুয়াক) নেতারা বলছেন, পর্যাপ্ত প্রশাসনিক তদারকি, প্রশিক্ষিত কর্মী ও আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তাদের মতে, অনভিজ্ঞ কর্মী দিয়ে পরিচালিত এসব কার্যক্রম শুধু পর্যটকদের জীবনই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে না, দেশের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

## আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নেই

বিশ্বব্যাপী প্যারাসেইলিং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস হিসেবে বিবেচিত। তাই অধিকাংশ দেশে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত অপারেটর, নিয়মিত সরঞ্জাম পরীক্ষা, জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

তবে কক্সবাজারে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এসব নিরাপত্তা শর্ত পূরণের প্রমাণ মেলেনি।

## প্রশাসনের বক্তব্য

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলার কোনো প্রতিষ্ঠান বৈধ লাইসেন্স নিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করছে না। ইজারার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও একাধিকবার অভিযান চালানোর পরও কিছু প্রতিষ্ঠান গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।

তিনি জানান, পর্যটকের মৃত্যুর পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্যারাসেইলিংয়ের যন্ত্রপাতি জব্দ করেছেন। কাগজপত্র ও সরঞ্জাম পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

## পর্যটকদের করণীয়

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্যারাসেইলিং করার আগে প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, লাইফ জ্যাকেট, হারনেস ও সেফটি হুক ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।

এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা উচ্চতাভীতি থাকলে এই ধরনের রাইড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।