১০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আইসিসির চিফ প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

নিউজ ডেস্ক

ভোটাভুটির মাধ্যমে আইসিসির চিফ প্রসিকিউটর করিম খানকে বরখাস্ত করেছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো।

আইসিসির ইতিহাসে প্রথমবার চিফ প্রসিকিউটর অপসারণ

যৌন নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের প্রায় দুই বছর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চিফ প্রসিকিউটর করিম খানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের ভোটাভুটিতে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইসিসির ইতিহাসে কোনো চিফ প্রসিকিউটরকে অপসারণের ঘটনা এটিই প্রথম।

করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?

ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খানের বিরুদ্ধে তার এক নারী সহকারীর করা যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন করিম খান। তিনি দাবি করেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

আইসিসির অভ্যন্তরীণ তদারকি পর্ষদের এক প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ‘গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ’-এর প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়।

ভোটাভুটিতে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ করিম খানকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেয়।

ভোটের শুরুতে সিয়েরা লিওন বরখাস্তের প্রক্রিয়া কঠিন করার একটি প্রস্তাব দেয়। তবে অধিকাংশ দেশ এর বিরোধিতা করায় প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই মূল ভোট সম্পন্ন হয়।

ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

করিম খানের বরখাস্তের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইসরাইল-গাজা যুদ্ধ এবং আফগানিস্তান ইস্যুতে আইসিসি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেন, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন করিম খানসহ কয়েকজন আইসিসি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। বিশেষ করে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

গ্রেফতারি পরোয়ানায় প্রভাব পড়বে কি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, করিম খান পদচ্যুত হলেও তার সময়ে জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু আদালতের বিচারক প্যানেলের রয়েছে।

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আইসিসির চিফ প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

সময় : ০৩:১৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

আইসিসির ইতিহাসে প্রথমবার চিফ প্রসিকিউটর অপসারণ

যৌন নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের প্রায় দুই বছর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চিফ প্রসিকিউটর করিম খানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের ভোটাভুটিতে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইসিসির ইতিহাসে কোনো চিফ প্রসিকিউটরকে অপসারণের ঘটনা এটিই প্রথম।

করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?

ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খানের বিরুদ্ধে তার এক নারী সহকারীর করা যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন করিম খান। তিনি দাবি করেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

আইসিসির অভ্যন্তরীণ তদারকি পর্ষদের এক প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ‘গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ’-এর প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়।

ভোটাভুটিতে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ করিম খানকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেয়।

ভোটের শুরুতে সিয়েরা লিওন বরখাস্তের প্রক্রিয়া কঠিন করার একটি প্রস্তাব দেয়। তবে অধিকাংশ দেশ এর বিরোধিতা করায় প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই মূল ভোট সম্পন্ন হয়।

ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

করিম খানের বরখাস্তের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইসরাইল-গাজা যুদ্ধ এবং আফগানিস্তান ইস্যুতে আইসিসি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেন, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন করিম খানসহ কয়েকজন আইসিসি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। বিশেষ করে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

গ্রেফতারি পরোয়ানায় প্রভাব পড়বে কি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, করিম খান পদচ্যুত হলেও তার সময়ে জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু আদালতের বিচারক প্যানেলের রয়েছে।