ট্রাম্পের জনসমর্থন রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্নে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদনের হার তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নতুন রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন জানিয়েছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
চার দিন ধরে পরিচালিত জরিপটি ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালানো হয়। আগের সপ্তাহের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। একই সময়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ শতাংশে নেমেছে।
জরিপ চলাকালে ট্রাম্প তিনটি বড় সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক কেনেডি সেন্টার নিয়ে নিজের নাম সংক্রান্ত বিরোধের মধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলার কথাও বলেন তিনি।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বড় অসন্তোষ
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার অনুমোদনের হার ছিল ৪৭ শতাংশ।
তবে নতুন জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে অনুমোদন জানিয়েছেন মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ। জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকরা জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ বিষয়ে অসন্তোষ বেড়েছে। নতুন জরিপে প্রথমবারের মতো জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট রিপাবলিকানদের সংখ্যা সন্তুষ্টদের ছাড়িয়ে গেছে। অসন্তুষ্ট ৫১ শতাংশ, বিপরীতে সন্তুষ্ট ৪৪ শতাংশ।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং এ বিষয়টি ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলার প্রতি জনসমর্থনেও প্রভাব ফেলছে।
নতুন জরিপে ইরানে মার্কিন হামলাকে সমর্থন করেছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা। অন্যদিকে ৮২ শতাংশ মনে করেন, সংঘাতটি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
ট্রাম্প শুরুতে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে হামলা প্রয়োজন। তবে সংঘাত নিয়ে জনমতের একটি বড় অংশ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
বাইডেনের মেয়াদের সর্বনিম্নের চেয়েও নিচে
নতুন জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার তার পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পুরো মেয়াদের সর্বনিম্ন ৩৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। বাইডেনের এই ৩৫ শতাংশ অনুমোদন ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে দেখা গিয়েছিল।
তবে বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ভিন্ন। অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের ৭৯ শতাংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। সব মার্কিন নাগরিককে হিসাবে নিলে এ নীতির প্রতি সমর্থন ৩৬ শতাংশ এবং বিরোধিতা ৫৫ শতাংশ।
অপরাধ দমনে ট্রাম্পের ভূমিকা অনুমোদন করেছেন ৩৫ শতাংশ মানুষ, আর ৫০ শতাংশ জানিয়েছেন তারা এতে সন্তুষ্ট নন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনেও জনমতের চিত্র
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ আগামী দুই বছরের জন্য নির্ধারিত হবে।
রয়টার্স/ইপসোস জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ বলেছেন, তারা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করবেন। রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ। এটি চলতি বছর রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় ব্যবধান।
তবে এই ফলাফল জাতীয় পর্যায়ের সামগ্রিক জনমত তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হয় অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকার পৃথক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে। ফলে জাতীয় জরিপের ফল সরাসরি প্রতিটি আসনের পরিস্থিতি তুলে ধরে না।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ হাজার ২৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে অনলাইনে পরিচালিত হয়। জরিপটির ত্রুটির সীমা ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স/ইপসোস






















