ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি নিউইয়র্কে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সফরের আগেই তিনি নিউইয়র্কে পৌঁছান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এদিন ভোরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে তেহরান ছাড়েন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। চলমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে যাওয়া ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হবেন তিনি।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় তেহরান ছাড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে কাতারে যাত্রাবিরতি করেন তিনি। সেখানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কাতারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আরাগচি। এ সময় সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ইরানি সাংবাদিকদের আরাগচি বলেন, ইরানি জনগণের বৈধতা, অধিকার ও স্বার্থ তুলে ধরতে জাতিসংঘের এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আরাগচি বৈঠক করবেন।
এদিকে, জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানি প্রতিনিধিদলের মূল সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হলেও তাদের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচল ও নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কেনার ওপর সীমাবদ্ধতা থাকবে। বিলাসবহুল পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রতিনিধিদলের যোগাযোগ ও গণমাধ্যম দলের কয়েকজন সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দেয়নি। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ইরানি প্রতিনিধিদল ছোট হচ্ছে।
এরই মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ অবসান ও আলোচনায় ফেরার বিষয়ে ইরান কিছু শর্ত পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও এ আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি তাই কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।






















